খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

স্বপ্নের নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু, নবীনবরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন করলেন শিক্ষামন্ত্রী

মোঃ আরিফুল ইসলাম, নওগাঁ 
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:২৫ অপরাহ্ণ
স্বপ্নের নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু, নবীনবরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন করলেন শিক্ষামন্ত্রী
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম। ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ এবং শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের উচ্চশিক্ষায় যুক্ত হলো নতুন এক অধ্যায়।
শনিবার (১৮ জুলাই) শহরের বরুলকান্দি এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। সকালে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন, পায়রা ও বেলুন উড্ডয়নের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। পরে নতুন শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক গ্রন্থাগার, কম্পিউটার ল্যাব এবং ব্র্যাক ব্যাংক স্টাডি সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়।
পরে উপজেলা অডিটোরিয়ামে নবীনবরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষা মন্ত্রী *ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন* বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য *প্রফেসর ড. মোহাঃ হাছানাত আলী*-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, সচিব, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান, স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার নতুন দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে। আধুনিক শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিনের দাবির পর প্রতিষ্ঠিত নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হওয়ায় জেলার পাশাপাশি আশপাশের জেলার শিক্ষার্থীরাও নিজ অঞ্চলে মানসম্মত উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবেন। এতে শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের সফল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ কামনা করেন।

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।