খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়াতে ৫ বছর মেয়াদি নতুন কর্মপরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়াতে ৫ বছর মেয়াদি নতুন কর্মপরিকল্পনা

এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে বাংলাদেশের বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আওতাধীন এনহ্যানসড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক (EIF)-এর তৃতীয় পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করা কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্ট (CPD) বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসব লক্ষ্য অর্জনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রবিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্টের ভ্যালিডেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। একদিকে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি, অন্যদিকে রপ্তানি খাতে নন-ট্যারিফ বাধা, আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, “EIF এর পূর্ববর্তী ফেইজসমূহে যে সুপারিশ দিয়ে আসছে, কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্টে সেই বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখানে ১২টি কার্যক্রম রাখা হয়েছে, যার প্রতিটিই বাংলাদেশের বাণিজ্য সক্ষমতা উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।”
বাণিজ্য সচিব বলেন, শুধু নীতিমালা বা গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করলেই হবে না, এর সফল বাস্তবায়নই মূল বিষয়। তিনি বলেন, “স্টাডির পাশাপাশি বাস্তবায়ন পর্যায়ে কীভাবে সংস্কারগুলো কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকতে হবে। মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত এসব সংস্কারের সুফল পৌঁছাতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ, উদারীকরণ, সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিমালা ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কর্মশালায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিউটিও) খাদিজা নাজনীন বলেন, ডব্লিউটিওর এনহ্যানসড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক (EIF) কর্মসূচির মাধ্যমে এলডিসি দেশগুলোকে বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা দেওয়া হয়। এই কর্মসূচিতে যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সুইডেনসহ কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগী দেশ অর্থায়ন করে থাকে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ EIF-এর আওতায় ইতোমধ্যে দুটি পর্যায়ে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। প্রথম পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে এবং শেষ হয় ২০১৫ সালে। দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয় ২০১৬ সালে, যা ২০২৪ সালে শেষ হয়েছে। এখন তৃতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হবে।তৃতীয় পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করা কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্টের ভিত্তিতে বাংলাদেশ অর্থায়ন সহায়তা পাবে। পাঁচ বছর মেয়াদি এই কার্যক্রম চলতি বছর থেকেই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও EIF-এর পরামর্শক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিদ্যমান নীতি, কৌশল ও পূর্ববর্তী গবেষণার সুপারিশগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ডিটিআইএস (Diagnostic Trade Integration Study), রপ্তানি নীতি, শিল্পনীতি, বাণিজ্য নীতি, ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন অ্যাগ্রিমেন্ট এবং বিনিয়োগ সুবিধা বিষয়ক উদ্যোগ থেকে প্রাধান্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫২টি প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে উন্নয়ন সহযোগীদের সম্ভাব্য সহায়তা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা বিবেচনা করে সেগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১২টি কার্যক্রমে সীমিত করা হয়েছে।এসব কার্যক্রমের মধ্যে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য সহজীকরণ, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-এর ব্যবহারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।”
কর্মশালায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার, অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি) শিবির বিচিত্র বড়ুয়া এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, EIF-এর তৃতীয় পর্যায়ের এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের পরও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ আইনমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ আইনমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিদ্যমান ও উদীয়মান আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় শক্তিশালী জাতীয় পদক্ষেপের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা জোরদার এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ১৫তম জাতিসংঘ অপরাধ প্রতিরোধ ও ফৌজদারি বিচার কংগ্রেসের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে এ কথা বলেন।

২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে (ADNEC) অনুষ্ঠিত এই কংগ্রেসে আইনমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব প্রদান করছেন।

বক্তব্যে আইনমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, ন্যায়বিচারে জনগণের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা জোরদার এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।তিনি বাংলাদেশের চলমান বিচারিক সংস্কারের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং শক্তিশালী জাতীয় পদক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিদ্যমান ও উদীয়মান আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আবুধাবি ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ ফৌজদারি কার্যবিধি সংস্কারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এর মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বিচারপ্রক্রিয়ার কার্যকর ব্যবহার আরও জোরদার ও সম্প্রসারণ, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, মামলাজট কমানো এবং সময়োপযোগী ও ন্যায়সংগত বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।ভিয়েনাভিত্তিক জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (UNODC) পাঁচ বছর অন্তর অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কংগ্রেসটির আয়োজক।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম ছাড়াও আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা রয়েছেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস