খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

মাগুরা মহাসড়কে ডাকাতি-ছিনতাই রোধে রাতভর টহল জোরদার: পরিদর্শনে পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ

সোহেল রানা, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ২:২৮ অপরাহ্ণ
মাগুরা মহাসড়কে ডাকাতি-ছিনতাই রোধে রাতভর টহল জোরদার: পরিদর্শনে পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ

মাগুরা জেলার মহাসড়কগুলোতে ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ প্রতিরোধে নিরাপত্তা ও টহল কার্যক্রম জোরদার করেছে মাগুরা জেলা পুলিশ। সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে গভীর রাতে নিজেই মাঠে নেমেছেন জেলা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএম-সেবা। মহাসড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সরেজমিনে পরিদর্শন করে তিনি টহলরত পুলিশ সদস্যদের সার্বিক নিরাপত্তা কার্যক্রম তদারকি করেন। ​জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে মহাসড়কের নিরাপত্তা রক্ষায় পাঁচটি বিশেষ টহল দল নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে আলমখালী, মঘিরঢাল, ধলহরা বাজার, গাংনালিয়া এবং মাগুরা ট্রাক টার্মিনালসহ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে রাতভর জোরদার নজরদারি ও চেকপোস্ট কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ​গভীর রাতের এই ঝটিকা তদারকিকালে পুলিশ সুপার কেবল নির্দেশনাই দেননি, বরং কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের মনোবল বাড়াতে নিজেই চা-নাস্তা ও রাতের খাবারের ব্যবস্থা করেন। দীর্ঘ সময় মাঠে থেকে সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের কাজের উৎসাহিত করেন। ​পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) থান্দার খায়রুল হাসান, পিপিএম-সেবা, মাগুরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ​পুলিশ সুপারের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ও আন্তরিকতায় উচ্ছ্বসিত মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা: ​ইন্সপেক্টর আরিফ বলেন, “কর্মজীবনে এমন উদ্যোগ এই প্রথম দেখলাম। স্যারের এমন উপস্থিতিতে আমাদের কাজের স্পৃহা ও উৎসাহ বহুগুণ বেড়ে গেছে।” ​ইন্সপেক্টর মো. মোকাম্মেল হক তার ২০ বছরের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, “দীর্ঘ চাকরি জীবনে অনেক জায়গায় দায়িত্ব পালন করেছি, কিন্তু গভীর রাতে কোনো পুলিশ সুপারকে এভাবে এসে খোঁজ নিতে দেখিনি। এটি আমাদের জন্য অনেক বড় প্রেরণা।” ​ইন্সপেক্টর কাওসার আলম বলেন, “৩১ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবনে এই প্রথম দেখলাম একজন পুলিশ সুপার নিজে চা-নাস্তা নিয়ে রাতের বেলা আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। স্যারের এই আন্তরিকতা আমাদের দায়িত্ব পালনে আরও নিষ্ঠাবান করবে।” ​নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, মাগুরার মহাসড়কে যাত্রী ও যানবাহনের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং চেকপোস্ট পরিচালনার মাধ্যমে অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। ​তিনি আরও যোগ করেন, “জনসাধারণ যখন ঘুমায়, তখন আমাদের সদস্যরা রাত জেগে সড়ক পাহারা দেন। তাদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে এবং দিকনির্দেশনা দিতেই আমি মাঝরাতে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি। জনস্বার্থে মাগুরা জেলা পুলিশের এই তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ আইনমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ আইনমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিদ্যমান ও উদীয়মান আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় শক্তিশালী জাতীয় পদক্ষেপের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা জোরদার এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ১৫তম জাতিসংঘ অপরাধ প্রতিরোধ ও ফৌজদারি বিচার কংগ্রেসের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে এ কথা বলেন।

২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে (ADNEC) অনুষ্ঠিত এই কংগ্রেসে আইনমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব প্রদান করছেন।

বক্তব্যে আইনমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, ন্যায়বিচারে জনগণের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা জোরদার এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।তিনি বাংলাদেশের চলমান বিচারিক সংস্কারের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং শক্তিশালী জাতীয় পদক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিদ্যমান ও উদীয়মান আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আবুধাবি ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ ফৌজদারি কার্যবিধি সংস্কারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এর মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বিচারপ্রক্রিয়ার কার্যকর ব্যবহার আরও জোরদার ও সম্প্রসারণ, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, মামলাজট কমানো এবং সময়োপযোগী ও ন্যায়সংগত বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।ভিয়েনাভিত্তিক জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (UNODC) পাঁচ বছর অন্তর অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কংগ্রেসটির আয়োজক।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম ছাড়াও আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা রয়েছেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস