খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

শার্শায় যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ পালিত: শ্রদ্ধার্ঘ্য ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

মোঃ জমির হোসেন
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ণ
শার্শায় যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ পালিত: শ্রদ্ধার্ঘ্য ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

যশোর জেলার শার্শায় ৫ আগস্ট ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ ২০২৬ অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের শহীদদের স্মরণে দিনটি উপলক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণী ও বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

​মঙ্গলবার(৫ আগষ্ট) সকালে শার্শা উপজেলা কার্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে। প্রথমে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের পক্ষ থেকে এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
​শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে এক বর্ণাঢ্য আলোচনা সভা ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর-৮৫/১ (শার্শা) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আজিজুর রহমান। এতে সভাপতিত্ব করেন শার্শা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নিয়াজ মাখদুম।
​আলোচনা সভায় বিশেষ ও সম্মানিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন:
​শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির,​উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুজ্জামান লিটন,​উপজেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা খায়রুজ্জামান মধু,​জামায়াতে ইসলামীর শার্শা উপজেলা আমির তৈমুর রহমান
​সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ‘ক’ সার্কেল( নাভারণ) মো. আরিফ হোসেন
​শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামিনুল হক,
​বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফ হোসেন,​বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান,
​বেনাপোল পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মফিজুর রহমান বাবু,​বেনাপোল পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ওমর ফারুক,​শার্শা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম চয়ন ও সদস্য সচিব সবুজ হোসেন খান,​শার্শা উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাইমিনুল সাগর,​বেনাপোল পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আরিফ ও সদস্য সচিব ইশতিয়াক আহম্মেদ শাওন ও
​এনসিপি নেতা আকাশ হোসেন সহ স্থানীয় অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

​আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, “৫ আগস্ট বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের শৃঙ্খল ভেঙে গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যেসকল তরুণ ও সাধারণ মানুষ নিজেদের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে আত্মত্যাগ করেছেন, জাতি চিরকাল তাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।” ​বক্তারা আরও জোর দিয়ে বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল একটি বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত, ইনসাফভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। শহীদদের এই স্বপ্নের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে দল-মত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে।”

​অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণে ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে আয়োজন করা চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পরিশেষে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শাহাদাতবরণকারী সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা প্রার্থনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।