খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

মা-হারা অসুস্থ শিশুর পাশে দুর্গাপুরের ইউএনও নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা প্রদান, চিকিৎসার আশ্বাস

মোস্তাফিজুর রহমান রানা
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০৪ অপরাহ্ণ
মা-হারা অসুস্থ শিশুর পাশে দুর্গাপুরের ইউএনও  নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা প্রদান, চিকিৎসার আশ্বাস

রাজশাহীর দুর্গাপুরে মা-হারা দুই বছরের অসুস্থ শিশু সিন্থিয়ার পাশে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উম্মে হাবিবা ফারজানা।

বুধবার সকালে তিনি উপজেলার কিসমত গনকৈড় ইউনিয়নের গোপালপাড়া গ্রামে শিশুটির বাড়িতে ছুটে যান এবং পরিবারটির হাতে নগদ অর্থ, খাদ্যসামগ্রী ও ফলমূল তুলে দেন। একইসঙ্গে শিশুটির চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপালপাড়া গ্রামের আল-আমিনের স্ত্রী রিপা বেগম (২২) বেশ কিছুদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। দুই বছরের কন্যা সিন্থিয়াকে রেখে তিনি নিখোঁজ হওয়ায় শিশুটি বর্তমানে মাতৃহীন। শিশুটি শারীরিকভাবে অসুস্থ, স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারে না। দরিদ্র পরিবারটির পক্ষে শিশুটির চিকিৎসা ও ভরণপোষণ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিষয়টি স্থানীয় গ্রাম পুলিশ রাজু আহমেদের মাধ্যমে জানতে পারেন ইউএনও উম্মে হাবিবা ফারজানা। খবর পেয়েই তিনি বুধবার সকালে সরাসরি শিশুটির বাড়িতে যান। সেখানে শিশুটির শারীরিক অবস্থা ও পরিবারের সার্বিক আর্থিক সংকটের খোঁজখবর নেন। পরে তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের হাতে নগদ ৫ হাজার টাকা, খাদ্যসামগ্রী ও ফলমূল তুলে দেন।

এ বিষয়ে ইউএনও উম্মে হাবিবা ফারজানা বলেন,সকালে শিশুটিকে দেখতে তাদের বাসায় গিয়েছিলাম। পরিবারের সচ্ছলতা না থাকায় নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। শিশুটির চিকিৎসা প্রয়োজন। তাই পরিবারটিকে উপজেলা কার্যালয়ে আসতে বলা হয়েছে। আমরা তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

এদিকে সরকারি কর্মকর্তা হয়ে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তাৎক্ষণিক সহায়তা করায় স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছেন ইউএনও। স্থানীয়রা জানান, দুর্গাপুরে যোগদানের পর থেকেই তিনি শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনেই সীমাবদ্ধ না থেকে অসহায়, দরিদ্র ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে মানবিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছেন। এ কারণে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে ‘মানবিক কর্মকর্তা’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

কে এম রাজিব
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পটে বেশি গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। রোববার ( ২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টায় নগরীর সাগরিকা মোড় সংলগ্ন কাজীর দীঘি এলাকায় চসিকের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে মেয়র এ কথা জানান। একই সঙ্গে নগরবাসীকে নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং ঘুমানোর সময় নিয়মিত মশারি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

 

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চসিকের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পট এলাকাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এসব এলাকায় মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বাড়ছে। এ কারণে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে চসিকের মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচের ট্রে, নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র ও অন্যান্য পরিত্যক্ত সামগ্রীও দ্রুত অপসারণ করতে হবে। তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন—এই অভ্যাস নগরবাসীকে গড়ে তুলতে হবে। নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, অন্যকেও সচেতন করুন। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়। তাই দিনের বেলায় সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঘুমানোর সময় সবসময় মশারি ব্যবহার করতে হবে।