খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

শায়েস্তাগঞ্জের অলিপুরে অনুমোদন ছাড়াই মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা

কে এম রাজীব
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৯:২৯ অপরাহ্ণ
শায়েস্তাগঞ্জের অলিপুরে অনুমোদন ছাড়াই মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ব্রাহ্মণডোরা ইউনিয়নের অলিপুরে মোজাহের উচ্চ বিদ্যালয় ও জামিয়া মাদানিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার সামনে অনুমোদন ছাড়াই মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে। মেলাকে ঘিরে সড়কের পাশে স্টল বসানো, জনভোগান্তি এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

বুধবার (১২ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, মোজাহের উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন মাদ্রাসার মাঠে বিভিন্ন ধরনের দোকান ও স্টল বসানো হয়েছে। মেলার কারণে অনু মিয়া সড়কের পাশের অংশেও মানুষের চলাচল ও যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মেলার বিভিন্ন স্টল থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করছেন শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তোফায়েল আহমেদ মনির। মেলা আয়োজনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকলেও এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মেলার এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এখানে প্রায় ২০ থেকে ২৫টি স্টল রয়েছে। প্রতিটি স্টল থেকে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এই অর্থ কারা আদায় করছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে রাজি হননি ওই ব্যবসায়ী।

এদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে মেলা বসানো নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা। তাদের আশঙ্কা, মেলার ভিড় ও শব্দের কারণে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাদ্রাসা শিক্ষক বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে মেলার বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে তারা ভয় পাচ্ছেন। মোজাহের উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকও অভিযোগ করেন, মেলার বিষয়ে আপত্তি জানালে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে হয়রানির ভয় দেখানো হয়েছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, যুবদল নেতা মনির বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা রয়েছে এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় পথচারীদের অভিযোগ, ব্যস্ত সড়কের পাশে মেলা বসানোর কারণে শিক্ষার্থী, পথচারী এবং ছোট শিশুদের নিয়ে চলাচলকারী অভিভাবকদের দুর্ভোগ বাড়ছে। তারা নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

মেলার অনুমোদনের বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের কাছে জানতে চাইলে, সহকারী কমিশনার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার চলতি দায়িত্বে থাকা আরিফুর রহমান শান্ত জানান, বাণিজ্য মেলা আয়োজনের বিষয়ে তিনি একটি গুঞ্জন শুনেছেন। তবে এ মেলার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

প্রশাসনের অনুমোদন না থাকার পরও কীভাবে একটি মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা চলছে-এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, মেলার অনুমোদন, সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশের জায়গা ব্যবহারের বৈধতা এবং স্টলপ্রতি অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়া চলা এই মেলা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।