কালিয়াকৈর চন্দ্রা বনবিটের প্রহরীর কোটি টাকার ভবন, আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা বনবিটের এক বন প্রহরীর বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অনিয়ম ও অবৈধ সুবিধা আদায়ের মাধ্যমে বিপুল অর্থ সম্পদ গড়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে চন্দ্রা চেকপোস্টের উত্তর পাশে নির্মাণাধীন তাঁর একটি বহুতল ভবন।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, বন প্রহরী এনামুল ইসলামের ওই ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় দুই বছর ধরে ধাপে ধাপে চলছে। ভবনটিতে পাঁচতলা ফাউন্ডেশনসহ কাঠামো নির্মাণে ইতোমধ্যে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে আরও প্রায় এক কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, বন বিভাগের ১৭তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর নিয়মিত বেতন-ভাতার সঙ্গে এত বড় নির্মাণ ব্যয়ের সামঞ্জস্য কীভাবে হলো? তাঁদের অভিযোগ, চন্দ্রা বনবিট এলাকায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও গাছ কাটার সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমে বন প্রহরী এনামুল ইসলাম অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করেছেন।
তবে বাড়ি নির্মাণ বা সম্পদ থাকা নিজেই কোনো অপরাধ নয়। অভিযোগের মূল বিষয় হলো—এই বিপুল সম্পদের অর্থের উৎস কী। বিষয়টি যাচাইয়ে তাঁর আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব, জমি কেনাবেচার দলিল এবং ঘোষিত সম্পদের হিসাব পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, একজন মাঠপর্যায়ের কর্মচারীর এমন বড় নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে চললেও বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসেনি কেন—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে বন প্রহরী এনামুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চন্দ্রা বনবিট কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ইতোমধ্যে বিস্তারিত তথ্য বিভাগীয় কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।”
অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং বন বিভাগের সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন