খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

কালিয়াকৈর চন্দ্রা বনবিটের প্রহরীর কোটি টাকার ভবন, আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন

জাহাঙ্গীর আলম শরিফ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৪ অপরাহ্ণ
কালিয়াকৈর চন্দ্রা বনবিটের প্রহরীর কোটি টাকার ভবন, আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা বনবিটের এক বন প্রহরীর বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অনিয়ম ও অবৈধ সুবিধা আদায়ের মাধ্যমে বিপুল অর্থ সম্পদ গড়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে চন্দ্রা চেকপোস্টের উত্তর পাশে নির্মাণাধীন তাঁর একটি বহুতল ভবন।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, বন প্রহরী এনামুল ইসলামের ওই ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় দুই বছর ধরে ধাপে ধাপে চলছে। ভবনটিতে পাঁচতলা ফাউন্ডেশনসহ কাঠামো নির্মাণে ইতোমধ্যে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে আরও প্রায় এক কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, বন বিভাগের ১৭তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর নিয়মিত বেতন-ভাতার সঙ্গে এত বড় নির্মাণ ব্যয়ের সামঞ্জস্য কীভাবে হলো? তাঁদের অভিযোগ, চন্দ্রা বনবিট এলাকায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও গাছ কাটার সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমে বন প্রহরী এনামুল ইসলাম অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করেছেন।
তবে বাড়ি নির্মাণ বা সম্পদ থাকা নিজেই কোনো অপরাধ নয়। অভিযোগের মূল বিষয় হলো—এই বিপুল সম্পদের অর্থের উৎস কী। বিষয়টি যাচাইয়ে তাঁর আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব, জমি কেনাবেচার দলিল এবং ঘোষিত সম্পদের হিসাব পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, একজন মাঠপর্যায়ের কর্মচারীর এমন বড় নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে চললেও বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসেনি কেন—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে বন প্রহরী এনামুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চন্দ্রা বনবিট কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ইতোমধ্যে বিস্তারিত তথ্য বিভাগীয় কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।”
অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং বন বিভাগের সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

কে এম রাজিব
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পটে বেশি গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। রোববার ( ২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টায় নগরীর সাগরিকা মোড় সংলগ্ন কাজীর দীঘি এলাকায় চসিকের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে মেয়র এ কথা জানান। একই সঙ্গে নগরবাসীকে নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং ঘুমানোর সময় নিয়মিত মশারি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

 

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চসিকের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পট এলাকাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এসব এলাকায় মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বাড়ছে। এ কারণে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে চসিকের মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচের ট্রে, নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র ও অন্যান্য পরিত্যক্ত সামগ্রীও দ্রুত অপসারণ করতে হবে। তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন—এই অভ্যাস নগরবাসীকে গড়ে তুলতে হবে। নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, অন্যকেও সচেতন করুন। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়। তাই দিনের বেলায় সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঘুমানোর সময় সবসময় মশারি ব্যবহার করতে হবে।