খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

কালিয়াকৈরে হাটে মাছ কাটার রমরমা ব্যবসা- যুবকের আয় হাজারো টাকা

জাহাঙ্গীর আলম শরিফ
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৫ অপরাহ্ণ
কালিয়াকৈরে হাটে মাছ কাটার রমরমা ব্যবসা- যুবকের আয় হাজারো টাকা

ফজরের আজান শেষ না হতেই গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার বাসস্ট্যান্ড, দোকানপাড়া, সফিপুর,মৌচাক ও বেনুপুর বাজারে শুরু হয়ে যায় জীবন যুদ্ধ। বঁটির ঝনঝনানি, মাছের আঁশ আর রক্ত-পানিতে ভেজা লাল পলিথিন। সকাল ৬টা থেকে বেলা ৪টা পর্যন্ত টানা কয়েক ঘণ্টা ছুরি চালিয়ে শত শত যুবক এখানে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
সময়ের চাহিদায় কালিয়াকৈরের হাট-বাজারে গড়ে উঠেছে নতুন অর্থনীতি -মাছ কাটা সার্ভিস। এই সার্ভিস এখন কালিয়াকৈরের প্রায় দেড়শ পরিবারের আয়ের উৎস।
১ কেজি মাছ কাটা-২০ টাকা,৫ কেজি মাছ একসাথে-১০০ টাকা।
বড় মাছ কাটা আলোচনা সাপেক্ষে,
সফিপুর বাজারের শ্রমিক রুবেল মিয়া ৩৫ বলেন, সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৪টা। ভালো দিনে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা। খারাপ দিনে ৫০০ টাকা। এই টাকায় ৪ জনের সংসার, ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া, ঘর ভাড়া সব।
দোকানপাড়ার সোহেল রানা এইচএসি পাস। তিনি বলেন, চাকরি নাই। বাবা রিকশা চালায়। ২ বছর ধরে মাছ কাটি। বৃষ্টিতে ভিজি, রোদে পুড়ি। হাত কাটলে ব্যান্ডেজ করে আবার কাজ। পেটের জন্য সব করা লাগে। সরকারি কলেজের ছাত্র রাকিব ১৯ বলেন, পড়াশোনার খরচ চালাতেই এই কাজ করি।
কালিয়াকৈর পৌরসভার ব্যাংক কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার বলেন,অফিসের চাপে বাসায় মাছ কাটার সময় নাই। ২০ টাকা দিলে সব কেটে ধুয়ে দেয়। সময়ও বাঁচে, ঝামেলাও নাই।
মাছ বিক্রেতা আব্দুল কাদের বলেন, _’এই সার্ভিস চালু হওয়ার পর আমার বিক্রি ৩০% বেড়েছে। মানুষ এখন নিশ্চিন্তে বড় মাছও কেনে।
কালিয়াকৈর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, কালিয়াকৈরের হাট-বাজারে মাছ কাটা একটি জনপ্রিয় সেবায় পরিণত হয়েছে। এতে ক্রেতারা যেমন উপকৃত হচ্ছেন, তেমনি শতাধিক যুবকের কর্মসংস্থানও হয়েছে। তবে মাছ কাটার সময় স্বাস্থ্যবিধি ও পরিবেশের বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, বঁটি, ছুরি ও কাটার স্থান যেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে সেদিকে বাজার কমিটিকে নজর দিতে হবে। বর্জ্য যেন ড্রেনে না যায়, নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। আমরা চাই এই পেশার সাথে যারা জড়িত তারা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও দক্ষ হয়ে উঠুক। সরকারিভাবে যদি কোনো প্রকল্প আসে আমরা সহযোগিতা করব।
শ্রমিকদের প্রধান দাবি একটি স্থায়ী শেড। শ্রমিক নেতা বাবুল হোসেন বলেন, রোদ-বৃষ্টিতে কাজ করতে হয়। বঁটির কোপে হাত কাটে। পৌরসভা যদি আমাদের জন্য একটা টিনের শেড আর পানির ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে আমরা আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারব।’
কালিয়াকৈর বাজারে মাছ ব্যবসায়ী বলেন, এটা এখন বাজারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমরা পৌর মেয়রের সাথে কথা বলে এদের জন্য ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব।

আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ আইনমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ আইনমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিদ্যমান ও উদীয়মান আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় শক্তিশালী জাতীয় পদক্ষেপের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা জোরদার এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ১৫তম জাতিসংঘ অপরাধ প্রতিরোধ ও ফৌজদারি বিচার কংগ্রেসের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে এ কথা বলেন।

২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে (ADNEC) অনুষ্ঠিত এই কংগ্রেসে আইনমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব প্রদান করছেন।

বক্তব্যে আইনমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, ন্যায়বিচারে জনগণের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা জোরদার এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।তিনি বাংলাদেশের চলমান বিচারিক সংস্কারের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং শক্তিশালী জাতীয় পদক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিদ্যমান ও উদীয়মান আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আবুধাবি ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ ফৌজদারি কার্যবিধি সংস্কারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এর মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বিচারপ্রক্রিয়ার কার্যকর ব্যবহার আরও জোরদার ও সম্প্রসারণ, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, মামলাজট কমানো এবং সময়োপযোগী ও ন্যায়সংগত বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।ভিয়েনাভিত্তিক জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (UNODC) পাঁচ বছর অন্তর অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কংগ্রেসটির আয়োজক।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম ছাড়াও আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা রয়েছেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস