খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

গজারিয়ায় গৃহবধূকে হত্যা, স্বামী পলাতক

গজারিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৫ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় গৃহবধূকে হত্যা, স্বামী পলাতক

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার নিজ বসতঘর থেকে দুই সন্তানের জননী রিনা আক্তার (৩৫) নামে এক গৃহবধূরকে বালিশ চাঁপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী সুমন এর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী সুমন সরকার পলাতক রয়েছে।

শনিবার(১২ সেপ্টেম্বর) সকালে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ নকীব আকরাম হোসেন এর নেতৃত্বে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। তিনি জানায় সুরতহালে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে হত্যাকান্ড। ময়নাতদন্তের রিপোর্টার পেলে বলা যাবে।

নিহত রিনা আক্তার বাউশিয়া ইউনিয়নের চর বাউশিয়া মধ্যমকান্দি গ্রামের সুমন সরকারের স্ত্রী।
নিহত রিনা একই উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের বৈদ্যারগাঁও গ্রামের মোঃ ইব্রাহিমের মেয়ে।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ,পারিবারিক বিরোধের জেরে রিনাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন তার স্বামী।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়,সুমন সরকারের পেশায় পেইন্টার। তার সঙ্গে প্রায় ১২ বছর আগে পারিবারিক ভাবে রিনার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সুমন মাদকাসক্ত ছিলো গত তিন-চার বছর ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কলহ চলছিলো । এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ ও মারামারি হতো ।

সুমনের মা রুফিয়া বেগম বলেন, শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে সুমনের সঙ্গে রিনার কথা কাটাকাটি ও মারামারি হয়। বিষয়টি জানার পর আমরা তাদের মিটমাট করে দিই। রাতে তাদের মধ্যে কী হয়েছে, তা আমার জানা নেই। সকালে সুমনের মেয়ে সিনহা কান্নাকাটি করতে থাকলে আমি ঘরে গিয়ে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি। এর আগে সুমন ঘর থেকে পালিয়ে যায়। আমার ছেলে মাদকাসক্ত সে এমন ভালো বৌ টা মেরে ফেলেছে। আমি চাই তার বিচার হোক।

নিহতের মা সাকিনা বেগম অভিযোগ করেন, সুমন মাদকাসক্ত ছিল। মাদকের টাকার জন্য সে প্রায়ই রিনাকে মারধোর করত। বাপের বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্যও তাকে চাপ দিত। এসব বিষয় নিয়ে বিরোধের জের ধরে রিনাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে সুমন পালিয়ে গেছে। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।

এ বিষয়ে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইমরান আহম্মেদ পিপিএম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এবিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে ।

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।