গজারিয়ায় গৃহবধূকে হত্যা, স্বামী পলাতক
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার নিজ বসতঘর থেকে দুই সন্তানের জননী রিনা আক্তার (৩৫) নামে এক গৃহবধূরকে বালিশ চাঁপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী সুমন এর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী সুমন সরকার পলাতক রয়েছে।
শনিবার(১২ সেপ্টেম্বর) সকালে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ নকীব আকরাম হোসেন এর নেতৃত্বে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। তিনি জানায় সুরতহালে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে হত্যাকান্ড। ময়নাতদন্তের রিপোর্টার পেলে বলা যাবে।
নিহত রিনা আক্তার বাউশিয়া ইউনিয়নের চর বাউশিয়া মধ্যমকান্দি গ্রামের সুমন সরকারের স্ত্রী।
নিহত রিনা একই উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের বৈদ্যারগাঁও গ্রামের মোঃ ইব্রাহিমের মেয়ে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ,পারিবারিক বিরোধের জেরে রিনাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন তার স্বামী।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়,সুমন সরকারের পেশায় পেইন্টার। তার সঙ্গে প্রায় ১২ বছর আগে পারিবারিক ভাবে রিনার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সুমন মাদকাসক্ত ছিলো গত তিন-চার বছর ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কলহ চলছিলো । এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ ও মারামারি হতো ।
সুমনের মা রুফিয়া বেগম বলেন, শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে সুমনের সঙ্গে রিনার কথা কাটাকাটি ও মারামারি হয়। বিষয়টি জানার পর আমরা তাদের মিটমাট করে দিই। রাতে তাদের মধ্যে কী হয়েছে, তা আমার জানা নেই। সকালে সুমনের মেয়ে সিনহা কান্নাকাটি করতে থাকলে আমি ঘরে গিয়ে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি। এর আগে সুমন ঘর থেকে পালিয়ে যায়। আমার ছেলে মাদকাসক্ত সে এমন ভালো বৌ টা মেরে ফেলেছে। আমি চাই তার বিচার হোক।
নিহতের মা সাকিনা বেগম অভিযোগ করেন, সুমন মাদকাসক্ত ছিল। মাদকের টাকার জন্য সে প্রায়ই রিনাকে মারধোর করত। বাপের বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্যও তাকে চাপ দিত। এসব বিষয় নিয়ে বিরোধের জের ধরে রিনাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে সুমন পালিয়ে গেছে। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।
এ বিষয়ে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইমরান আহম্মেদ পিপিএম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এবিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে ।



আপনার মতামত লিখুন