খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

ভূল্লী উপজেলা প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন সভাপতি মামুন,ও সাধারণ সম্পাদক শাহীন

মোঃ রাজু রানা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪২ অপরাহ্ণ
ভূল্লী উপজেলা প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন সভাপতি মামুন,ও সাধারণ সম্পাদক শাহীন

ঠাকুরগাঁওয়ে নবগঠিত ভূল্লী উপজেলা প্রেসক্লাবের আগামী দুই বছরের জন্য ১১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। মূলধারার ও পেশাদার সাংবাদিকদের সমন্বয়ে গঠিত এ কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন স্যাটেলাইট টেলিভিশন বাংলা টিভির ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি মামুনুর রশিদ (মামুন) এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক যুগের আলোর প্রতিনিধি শাহীন আলম।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পেশাদার সাংবাদিকদের নিয়ে ভূল্লী উপজেলা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি মো. মামুনুর রশিদ (মামুন) (বাংলা টিভি), সহ-সভাপতি মো. আব্দুল্লাহ হক (দৈনিক সোনালী খবর/দৈনিক উত্তরা) এবং সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন আলম (দৈনিক যুগের আলো) দায়িত্ব পেয়েছেন।
এছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. রাজু রানা (দৈনিক ঢাকার ডাক) ও মো. আশরাফুল ইসলাম (দৈনিক নাগরিক ভাবনা), দপ্তর সম্পাদক মো. আসিফ কামাল (দৈনিক দেশ বার্তা), অর্থ সম্পাদক মো. বেলাল হোসেন (দৈনিক স্বাধীন ভোর), প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. নুর ইসলাম (দৈনিক আলোকিত কণ্ঠ) এবং ক্রীড়া ও সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক মো. রাকিব হাসান (দৈনিক চেতনার বাংলাদেশ)।
কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. নাজিমুল ইসলাম (দিগন্তের কাগজ) ও মো. সুয়েল রানা (নয়া সংবাদ)।

নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ ভূল্লী উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও জনসাধারণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বস্তুনিষ্ঠভাবে গণমাধ্যমে তুলে ধরার পাশাপাশি পেশাদার সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
তারা বলেন, সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা। সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার, এলাকার উন্নয়ন এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরতে ভূল্লী উপজেলা প্রেসক্লাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নবগঠিত কমিটির মাধ্যমে সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।
ভূল্লী উপজেলা প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, ভূল্লী থানা প্রেসক্লাবের কার্যক্রমকে পুনর্গঠন করে নতুনভাবে ভূল্লী উপজেলা প্রেসক্লাব গঠন করা হয়েছে। মূলধারার ও পেশাদার সাংবাদিকদের নিয়ে গঠিত এই প্রেসক্লাবের মাধ্যমে সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করা হবে। সাংবাদিকতা পেশার মর্যাদা ও সুনাম অক্ষুণ্ন রেখে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করাই আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, ভূল্লী উপজেলা একটি নবগঠিত উপজেলা। এ অঞ্চলের মানুষের সমস্যা, সম্ভাবনা, উন্নয়ন, অনিয়ম ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো দায়িত্বশীলতার সঙ্গে গণমাধ্যমে তুলে ধরতে আমরা কাজ করব। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থেকে পেশাদার সাংবাদিকতার বিকাশ ঘটানো এবং সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় প্রেসক্লাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তিনি আরও বলেন, প্রেসক্লাব কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, বরং সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন ও জনস্বার্থে কাজ করবে। সকল পেশাদার সাংবাদিকের সহযোগিতা ও পরামর্শ নিয়ে ভূল্লী উপজেলা প্রেসক্লাবকে একটি সুসংগঠিত, কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাব।
ভূল্লী উপজেলা প্রেসক্লাবের নবগঠিত কমিটির সফলতা ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা।

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।