খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

নেপালের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রামাণ্যচিত্র পানকৌড়ি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৬ অপরাহ্ণ
নেপালের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রামাণ্যচিত্র পানকৌড়ি

ঢাকার ডাক বিনোদন: বাংলাদেশের প্রামাণ্যচিত্র পানকৌড়ি জায়গা করে নিয়েছে নেপালের প্রথম লুম্বিনী আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৬-এ। আগামী ৮ থেকে ১০ অক্টোবর পালপার তানসেনে অনুষ্ঠিতব্য এ উৎসবে ছবিটির প্রদর্শনী হবে।

প্রামাণ্যচিত্রটির নির্মাতা জাফর মুহাম্মদকে উৎসব কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের বিষয়টি জানিয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। ১৮ মিনিট ১৭ সেকেন্ডের ‘পানকৌড়ি’তে উঠে এসেছে পঞ্চগড়ের করতোয়া নদী এবং নদীকে ঘিরে মানুষের জীবন ও স্মৃতির গল্প।

ছবিটির মূল চরিত্র মুজিবুর রহমান। জীবনের দীর্ঘ ৫৫ বছর করতোয়া নদী থেকে পাথর সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন তিনি। তার জীবনযাপন এবং নদীর সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে করতোয়ার স্রোত কমে যাওয়ার চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে প্রামাণ্যচিত্রটিতে।

২০১৯ সালে ‘পানকৌড়ি’র নির্মাণ শুরু করেন জাফর মুহাম্মদ। ২০২৫ সালে নির্মাণকাজ শেষ হলেও পোস্ট-প্রোডাকশনের সময় মারা যান ছবিটির প্রধান চরিত্র মুজিবুর রহমান।আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রদর্শিত হয়েছে ‘পানকৌড়ি’। ২০২৫ সালে আওয়ার ফিল্মস শর্টস ফেস্ট ও চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক প্রামাণ্যচিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্যচিত্রের পুরস্কার অর্জন করে এটি।

এ ছাড়া ১২তম কলকাতা পিপলস ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, কেরালা শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ এবং দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল সেন্টার ফর দ্য আর্টসে আয়োজিত সপ্তম নদী উৎসবের ‘দ্য রিভার অ্যাজ অ্যান আর্কাইভিস্ট’ শীর্ষক প্রদর্শনীতেও ছবিটি নির্বাচিত হয়েছে।

করতোয়া বাংলাদেশ ও ভারতের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী। নদীটির সঙ্গে মানুষের জীবন, জীবিকা ও হারিয়ে যেতে থাকা স্মৃতির সম্পর্কই ‘পানকৌড়ি’র মূল উপজীব্য। নেপালের উৎসবে প্রদর্শনের মাধ্যমে ছবিটির আন্তর্জাতিক যাত্রায় যুক্ত হচ্ছে নতুন একটি অধ্যায়।

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস