খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

যশোরের কেশবপুরে গড়ভাঙ্গা-বাটবিলা সড়কে প্রকৃতির টানে দর্শনার্থীদের ঢল

মোঃশফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১২ অপরাহ্ণ
যশোরের কেশবপুরে গড়ভাঙ্গা-বাটবিলা সড়কে প্রকৃতির টানে দর্শনার্থীদের ঢল

এক পাশে বিশাল বিল, অন্য পাশে দৃষ্টিনন্দন পদ্মবিল। মাঝখান দিয়ে চলে গেছে পাকা সড়ক। সারি সারি খেজুরগাছ, বিস্তীর্ণ জলাভূমি, সবুজের সমারোহ আর নির্মল বাতাস—প্রকৃতির এমন নৈসর্গিক পরিবেশে যশোরের কেশবপুরের গড়ভাঙ্গা-বাটবিলা সড়ক এখন হয়ে উঠেছে ভ্রমণপিপাসু মানুষের নতুন ঠিকানা। প্রতিদিন বিকেল হলেই দূর-দূরান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠছে নিরিবিলি এই গ্রামীণ সড়ক।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নের গড়ভাঙ্গা গ্রামের শেখ পাড়া থেকে পার্শ্ববর্তী মনিরামপুর উপজেলার বাটবিলা পর্যন্ত বিস্তৃত সড়কটির দুই পাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ইতোমধ্যে স্থানীয়দের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার মানুষের নজর কেড়েছে। শহরের কোলাহল থেকে দূরে কিছুটা সময় প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটাতে বিকেল হলেই পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব কিংবা প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে এখানে ছুটে আসছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, কেউ ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন, আবার কেউ সড়কের পাশে বসে কাটাচ্ছেন অবসর সময়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দর্শনার্থীদের আনাগোনা বাড়ায় সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে ছোট পরিসরের ব্যবসাও। গড়ভাঙ্গা গ্রামের যুবক রায়হান প্রথমে একটি ছোট দোকান দিয়ে শুরু করলেও পরে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় একই গ্রামের রিয়াদও সেখানে দোকান দেন। বিকেল হলেই দোকান দুটির আশপাশে জমে ওঠে আড্ডা। এতে স্থানীয়ভাবে তৈরি হয়েছে বাড়তি আয়ের সুযোগ।
দর্শনার্থীদের মতে, পরিকল্পিতভাবে সড়কের দুই পাশের সৌন্দর্য সংরক্ষণ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে গড়ভাঙ্গা-বাটবিলা সড়কটি কেবল যাতায়াতের পথ নয়, কেশবপুরের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক পর্যটনস্থল হিসেবেও পরিচিতি পেতে পারে।
স্থানীয় সাংবাদিক রায়হান রনি বলেন, সড়কটি পাকাকরণের পর কেশবপুর, মনিরামপুর ও অভয়নগরের মানুষের যাতায়াত সহজ হয়েছে। একই সঙ্গে এর দুই পাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নতুন করে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। পরিকল্পিত সৌন্দর্যবর্ধন ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হলে স্থানটি আরও আকর্ষণীয় বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য আর বিলের জলরাশিতে গড়ভাঙ্গা-বাটবিলা সড়ক এখন ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে স্থানীয় মানুষের অবসর ও বিনোদনের নতুন ঠিকানায়। সংশ্লিষ্টদের পরিকল্পিত উদ্যোগ ও সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপই পারে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে দীর্ঘস্থায়ী আকর্ষণে রূপ দিতে।

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস