যশোরের কেশবপুরে গড়ভাঙ্গা-বাটবিলা সড়কে প্রকৃতির টানে দর্শনার্থীদের ঢল
এক পাশে বিশাল বিল, অন্য পাশে দৃষ্টিনন্দন পদ্মবিল। মাঝখান দিয়ে চলে গেছে পাকা সড়ক। সারি সারি খেজুরগাছ, বিস্তীর্ণ জলাভূমি, সবুজের সমারোহ আর নির্মল বাতাস—প্রকৃতির এমন নৈসর্গিক পরিবেশে যশোরের কেশবপুরের গড়ভাঙ্গা-বাটবিলা সড়ক এখন হয়ে উঠেছে ভ্রমণপিপাসু মানুষের নতুন ঠিকানা। প্রতিদিন বিকেল হলেই দূর-দূরান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠছে নিরিবিলি এই গ্রামীণ সড়ক।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নের গড়ভাঙ্গা গ্রামের শেখ পাড়া থেকে পার্শ্ববর্তী মনিরামপুর উপজেলার বাটবিলা পর্যন্ত বিস্তৃত সড়কটির দুই পাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ইতোমধ্যে স্থানীয়দের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার মানুষের নজর কেড়েছে। শহরের কোলাহল থেকে দূরে কিছুটা সময় প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটাতে বিকেল হলেই পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব কিংবা প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে এখানে ছুটে আসছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, কেউ ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন, আবার কেউ সড়কের পাশে বসে কাটাচ্ছেন অবসর সময়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দর্শনার্থীদের আনাগোনা বাড়ায় সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে ছোট পরিসরের ব্যবসাও। গড়ভাঙ্গা গ্রামের যুবক রায়হান প্রথমে একটি ছোট দোকান দিয়ে শুরু করলেও পরে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় একই গ্রামের রিয়াদও সেখানে দোকান দেন। বিকেল হলেই দোকান দুটির আশপাশে জমে ওঠে আড্ডা। এতে স্থানীয়ভাবে তৈরি হয়েছে বাড়তি আয়ের সুযোগ।
দর্শনার্থীদের মতে, পরিকল্পিতভাবে সড়কের দুই পাশের সৌন্দর্য সংরক্ষণ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে গড়ভাঙ্গা-বাটবিলা সড়কটি কেবল যাতায়াতের পথ নয়, কেশবপুরের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক পর্যটনস্থল হিসেবেও পরিচিতি পেতে পারে।
স্থানীয় সাংবাদিক রায়হান রনি বলেন, সড়কটি পাকাকরণের পর কেশবপুর, মনিরামপুর ও অভয়নগরের মানুষের যাতায়াত সহজ হয়েছে। একই সঙ্গে এর দুই পাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নতুন করে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। পরিকল্পিত সৌন্দর্যবর্ধন ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হলে স্থানটি আরও আকর্ষণীয় বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য আর বিলের জলরাশিতে গড়ভাঙ্গা-বাটবিলা সড়ক এখন ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে স্থানীয় মানুষের অবসর ও বিনোদনের নতুন ঠিকানায়। সংশ্লিষ্টদের পরিকল্পিত উদ্যোগ ও সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপই পারে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে দীর্ঘস্থায়ী আকর্ষণে রূপ দিতে।

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]