খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

ঝিনাইদহ সদরে ছোটদের মাদক থেকে দূরে রাখতে মহৎ উদ্যোগ

আব্দুস সালাম (জয়)
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহ সদরে ছোটদের মাদক থেকে দূরে রাখতে মহৎ উদ্যোগ

ঝিনাইদহ সদরের নলডাঙ্গা ইউনিয়নের চেউনিয়া গ্রামে সমাজসেবায় এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন লালন মন্ডল। নিজের নিঃস্বার্থ চেষ্টার মাধ্যমে তিনি এলাকার মানুষের সেবায় সর্বদা নিয়োজিত রেখেছেন নিজেকে। বিশেষ করে তরুণ ও কিশোর প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে দূরে রাখার লক্ষে তিনি নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন।

এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা যায়, লালন মন্ডল দীর্ঘদিন ধরে চেউনিয়া গ্রামসহ আশেপাশের এলাকায় সামাজিক ও মানবিক কাজে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলছেন। সাম্প্রতিক সময়ে যুবসমাজ ও কোমলমতি শিশুদের মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে তিনি নানামুখী সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ছোটদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং সুশিক্ষায় উৎসাহিত করার মাধ্যমে তাদের সঠিক পথে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
স্থানীয়দের মতে, লালন মন্ডলের এই সময়োপযোগী ও সমাজকল্যাণমূলক উদ্যোগের ফলে গ্রামের কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তার এই উদ্যোগে উৎসাহিত হয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকরাও তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে স্থানীয় এক অভিভাবক জানান, মাদকের কারণে আজকের সমাজে অনেক সম্ভাবনাময় জীবন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। লালন মন্ডল যেভাবে ছোটদের ভালো কাজের দিকে ধাবিত করছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এমন উদ্যোগ প্রতিটি গ্রামেই প্রয়োজন।
সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।লালন মন্ডল বলেন, আজকের শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের যদি আমরা সঠিক পথে রাখতে না পারি, তবে সুন্দর সমাজ গঠন করা সম্ভব নয়। সমাজ থেকে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দূর করে মানুষের সেবায় কাজ করে যাওয়াই আমার মূল লক্ষ্য।
এলাকাবাসী আশা করছেন, নলডাঙ্গা ইউনিয়নে লালন মন্ডলের এই মানবিক কার্যক্রম পুরো ঝিনাইদহ জেলায় মাদকমুক্ত ও সুস্থ সমাজ গঠনে এক অনুকরণীয় ভূমিকা পালন করবে।

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস