খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

ভারতকে ৩ রানে হারিয়ে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৬ অপরাহ্ণ
ভারতকে ৩ রানে হারিয়ে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ

ঢাকার ডাক স্পোর্টস: ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ এবারের আসরে প্রথম জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স। শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রবিবার (১১ অক্টোবর) রাতে হট ফেভারিট ভারত চ্যাম্পিয়ন্সকে ৩ রানে হারিয়েছে তারা।

বাংলাদেশের জয়ে বল হাতে বড় অবদান রেখেছেন এনামুল হক জুনিয়র, শিকার করেছেন ৪ উইকেট।টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেটে ১৪১ রান তোলে বাংলাদেশ। শুরুতে ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেননি টপ অর্ডারের ব্যাটাররা। ইমরুল কায়েস ৬ বলে ১০ রান করে ফেরেন। তবে, একপ্রান্তে লড়াই চালিয়ে যান রনি তালুকদার। ২৫ বলে চারটি চার ও দুটি ছক্কায় ৪০ রান করেন তিনি।

মিডল অর্ডারে নাসির হোসেনের ২৪ ও আরাফাত সানির ৩৭ রানের ইনিংসে লড়াই করার মতো সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। ভারতের হয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন পীযূষ চাওলা। দুটি করে উইকেট পান ঋষি ধাওয়ান ও পবন নেগি।১৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে ভারত। দলীয় ৪ রানে আম্বাতি রায়ডু ফেরেন। এরপর ৩০ রানের মধ্যেই স্টুয়ার্ট বিন্নি ও অধিনায়ক যুবরাজ সিংকে ফিরিয়ে ভারতকে চাপে ফেলে বাংলাদেশ।

রবিন উথাপ্পা ও ইউসুফ পাঠানও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। দলীয় ৫৫ রানের মধ্যে তাদের বিদায়ে জয়ের সম্ভাবনা জোরালো হয় বাংলাদেশের। তবে ঋষি ধাওয়ানের ১৮ বলে ২৪ রানের ইনিংসে লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করে ভারত।সেই চেষ্টা থামান এনামুল হক জুনিয়র। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ আরো শক্ত করেন তিনি। অন্যদিকে, ইরফান পাঠানের ৪১ বলে ২৪ রানের ইনিংস ভারতের রান তোলার গতি কমিয়ে দেয়।তবে শেষ দিকে নেগি ও চাওলার ব্যাটিংয়ে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরে আসে। তাদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৩ রানের রুদ্ধশ্বাস জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স।

 

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস