খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

পতিত জমি ও বাড়ির আঙিনায় পুষ্টি বাগান স্থাপন

শায়েস্তাগঞ্জে ৫৩ কৃষকের মাঝে উপকরণ বিতরণ

সৈয়দ আখলাক উদ্দিন মনসুর, শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ)
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৫, ৮:৪৯ অপরাহ্ণ
শায়েস্তাগঞ্জে ৫৩ কৃষকের মাঝে উপকরণ বিতরণ

কৃষি সমৃদ্ধি  সামনে রেখে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজনে অনাবাদি পতিত ও বসত বাড়ির আঙিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান প্রকল্পের আওতায় ৫৩ জন কৃষকের মাঝে বিভিন্ন রকমের সবজি বীজ, ফলের চারা, নেট জাল, জৈব সার, বীজ সংরক্ষণ করার পাত্র ও সাইনবোর্ড স্থাপন উপলক্ষে উপকরণ বিতরণ করা হয় ।

রবিবার (২৬ জানুয়ারি ) সকাল ১১ টায় উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ অফিস চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় । উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান এর নেতৃত্বে বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ নিজাম উদ্দিন, উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার বিধান দেব নাথ, উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মোঃ তোফায়েল আহমেদ, মোঃ জুবায়ের আহমেদ, শামসুন্নাহার বেগম, মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম, মোঃ আলী হোসেন, তাপস দেব নাথ, ছানা উল্লা শামীম, শাহ আলম, রাকেশ মজুমদার, শায়েস্তাগঞ্জ অনলাইন প্রেস ক্লাবের সভাপতি সৈয়দ আখলাক উদ্দিন মনসুর প্রমুখ ।

 

 

এদিকে ২০২৪-২৫ মৌসুমে অনাবাদি পতিত জমি ও বসত বাড়ির আঙিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন উপলক্ষে উপজেলার পৌরশহরে ও ইউনিয়নে ৫৩ জন কৃষকের মাঝে প্রত্যেককে একটি করে সাইনবোর্ড, পুষ্টি বাগান ঘেরা  বেড়ার জন্য নেট জাল, ১৩ রকমের বিভিন্ন জাতের সবজি বীজ, ৬টি ফলের কলমির চারা ( আম, পেয়ারা, বুড়োই, লেবু, পেঁপে) ৫০ কেজি (১ বস্তা ) জৈব সার, বীজ সংরক্ষণ করার জন্য ১টি পাত্র দেওয়া হয়েছে । এর মধ্যে উপজেলা কৃষকদের মাঝে বীজ, চারা, উপকরণ পেলেন – কাজিরগাঁও গ্রামের মোঃ ফরিদ আলী, নিশাপট গ্রামের মহসীন মিয়া, লাল খান, দক্ষিণ নুরপুর গ্রামের মুরুব্বি মর্তুজ আলী, গাড়ামারা গ্রামের সজল সরকার, প্রবীর সরকার, সাজন মিয়া, পুরা সুন্দা গ্রামের মোছাঃ লাভলী বেগম, সুলতানা বেগম, জগন্নাথপুর গ্রামের জাকির হোসেন, মোঃ বিলাল মিয়া সহ আরো অনেক ।

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।