৫ আগস্টসহ বিভিন্ন আন্দোলনের পেছনের কারণ দুর্নীতি: দুদক চেয়ারম্যান
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেছেন, দুর্নীতি দমন কমিশনে যারা কাজ করছেন তারা যদি দুর্নীতিতে না জড়ান তাহলে দুর্নীতি অনেকাংশেই কমে আসবে। এ সমাজে একেবারেই দুর্নীতি নির্মূল হবে সেটা আমি বলছি না। দুর্নীতি পুরোনো আমলেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। কিন্তু ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা হলে দুর্নীতি আমরা অনেকটাই কমিয়ে নিয়ে আসতে রব। আমাদের প্রধান আকাঙ্ক্ষা একটি ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ গঠন। এজন্য প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট সবার সদিচ্ছা। যদি আমাদের সদিচ্ছা থাকে তাহলে দুর্নীতি অনেকটাই কমে আসবে।
তিনি বলেন, গত ৫ আগস্ট পর্যন্ত কিংবা বিভিন্ন সময়ে যে আন্দোলন হয়েছে বা হচ্ছে তার পেছনের কারণটা কী? কারণ হচ্ছে, সমাজে আমরা এক ধরনের অবিচার লালন করি। প্রতিটি অবিচারের কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখা গেছে এর মূলে রয়েছে দুর্নীতি।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে বুধবার (২৯ জানুয়ারি) কুমিল্লায় দুর্নীতি দমন কমিশনের গণশুনানি চলাকালে এসব কথা বলেন তিনি। কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এই আয়োজন করা হয়। প্রিপেইড মিটার শুভঙ্করের ফাঁকি বলে উল্লেখ করেছেন দুদকের কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলী আকবার আজিজী। এ সময় তিনি মন্তব্য করেন, একটা মুরগি দুবার জবাই, এটা হয় না! আমি নিজেই এর ভুক্তভোগী। এই গণশুনানির পূর্বেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় বুথ স্থাপন করে অভিযোগ নেয় দুদক। সেখানে ১২১টি অভিযোগ জমা হয়। ৪০টি অভিযোগ তফসিলভুক্ত হওয়াতে সেগুলো গ্রহণ করে শুনানির জন্য ডাকা হয়।
শুনানিতে কুমিল্লার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করেন ভুক্তভোগীরা। কুমিল্লার বরুড়া থেকে এক ব্যক্তি কুমিল্লা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের বিরুদ্ধে তার ৫০০ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি প্রমাণস্বরূপ আনসার সদস্যের ৫০০ টাকা ঘুষ নেওয়ার ভিডিও হলভর্তি জনতার সামনে বড় স্ক্রিনে প্রচারের অনুরোধ করেন। তা প্রচারও করা হয়। ওই ভুক্তভোগী আবার বলেন, দুদকে অভিযোগের পর তার কাছ থেকে নেওয়া ৫০০ টাকা ফেরত দেওয়া হয় বিকাশের মাধ্যমে।

আপনার মতামত লিখুন