খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

গাঙচিল প্রকাশনের ৬০টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

খান আখতার হোসেন, সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১ মার্চ, ২০২৫, ১২:৩৩ অপরাহ্ণ
গাঙচিল প্রকাশনের ৬০টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমি, ঢাকায় মহান একুশে বইমেলা ২০২৫ এর মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে গাঙচিল প্রকাশিত ৬০টি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দেশ বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাঙচিলের কেন্দ্রীয় মহাসচিব বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন(অব.) ড. ইদ্রিস আলী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন গাঙচিলের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কবি মঞ্জু খন্দকার।

অন্যান্যের ভেতর বক্তব্য রাখেন গাঙচিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক কবি কবির হুমায়ূন, গাঙচিলের উত্তরা শাখার সাধারণ সম্পাদক কবি হারুনুর রশিদ প্রমূখ। প্রকাশিত গ্রন্থের গ্রন্থকারের ভেতর অনুভূতি ব্যক্ত করেন কবি সেলিনা শিউলি, কবি খাদিজা রহমান কল্পনা, কবি শরিফ ইমরুল হক, কবি পরিতোষ দত্ত, কবি দিলওয়ারা ইব্রাহিম ফকির, কবি রনজিত সরকার, কবি রেনু আরজুমান্দ বানু, কবি ফাতিমা বেনজির, কবিদিলু রোকিবা, কবি জিয়াউল হায়দার মোল্লা জিয়া প্রমুখ।

গাঙচিল প্রকাশনের সম্মানিত প্রকাশক খান আখতার হোসেনের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও পরিচালনায় সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর একটি অনুষ্ঠান উপহার দেয়া হয়।

অতিথিরা মন্তব্য করেন “বই কিনুন, বই পড়ুন, বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না”।

যেসব বইয়েরে মোড়ক উন্মোচন করা হয়:
আলোর দিশারী -কৌশিক সরকার (কবিতা), কাব্যে কোরআন শরীফ -মোঃ নূর হোসেন মোল্লা (কবিতা), নীড়ে ফেরা -লতিফা বেগম (ছোট গল্প), সঙ্গায়িত ভালোবাসা -শামিমা সাম্মী (উপন্যাস), ছায়া ভৌতিক থ্রিলার- শিমু তালুকদার (উপন্যাস), স্বাধীনতা চাই -শরিফ ইমরুল হক (কবিতা), তোমার গন্ধে আজও ব্যাকুল -শেলিমা হোসেন (কবিতা), কোন গোপনে মন জুড়ালো -শেলিমা হোসেন (ছোট গল্প), বাসন্তী সন্ধ্যা -সেলিনা শিউলি (কবিতা), দ্য কোটস -এসরাত জাহান বর্ণা (বাণী চিরন্তনী), আমার এলোমেলো কবিতাগুলো -দিলওয়ারা ইব্রাহিম ফকির (কবিতা), তুরস্কের জানা অজানা -প্রিন্সিপাল ডক্টর মোহাম্মদ হানিফ (ভ্রমণ), মালয়েশিয়া সিঙ্গাপুরে সাত দিন -প্রিন্সিপাল ড. হানিফ মল্লিক (ভ্রমণ), ভালোবেসে অবশেষে -খান মেহেদী (উপন্যাস), শিশুতোষ ছড়া কবিতা মঞ্জুরি -রনজিত সরকার (কবিতা), নির্বাচিত কবিতা -শহীদুল্লাহ আনসারী, খাঁচায় আমরা -এসএকে রেজাউল ইসলাম প্রবন্ধ (প্রবন্ধ), নোনা জলে জোক -শৈলেন্দ্রনাথ সরকার (কবিতা), আলোকের আহ্বান -সীমা সাহা (কবিতা), কালচক্র -মোহাম্মদ ফজলে কদর স্বাধীন (উপন্যাস), আলোর দুয়ার -নাসিমা খাতুন (কবিতা), আলোকিত নারী -ইমদাদুল হক তৈয়ব (জীবনী), অব্যক্ত প্রেম -মোঃ সোহেল দুখাই (কবিতা), অপেক্ষা -নুরুল ইসলাম (কবিতা), আলোর রথ -সেলিনা শিউলি (কবিতা), অমৃত রক্ত -মাসুম বিল্লাহ (কবিতা), আলোর দিশারী -কৌশিক সরকার (কবিতা), মন খারাপের বৃষ্টি -মামুন পাটোয়ারী (কবিতা), রোদ মেঘ বৃষ্টি -মোঃ আলমগীর হুমায়ুন (কবিতা), শূন্য কুঞ্জ -আসমা আক্তার কাজল (সম্পাদিত যৌথ কাব্য), চন্দন গাতির মহুয়া -শাহী সবুর (উপন্যাস), হৃদয়ের ছাপ -ফেরদৌসী বেগম শিল্পী ও খাদিজা রহমান কল্পনা (যৌথ কাব্য), চাঁদের জোছনা -খাদিজা রহমান কল্পনা (সম্পাদিত যৌথ কাব্য), নীল কষ্ট -শিউলি রহমান (কবিতা), আর এক মুক্তিযুদ্ধ -এরশাদ জাহান বর্ণা (কবিতা), মায়ের ভালোবাসা -রেনু আরজুমান্দ বানু (কবিতা), এখনই সময় -পরিতোষ দত্ত (কবিতা), দেশের গান আমার গান -জেমস শরৎ কর্মকার (গীতিকাব্য), ইচ্ছে খেয়া -আয়েশা আক্তার শিল্পী (কবিতা), জল জোছনার জননী -দিলু রোকিবা (কবিতা), নক্ষত্রের গহীনে অনুভূতি -ফাতেমা বেনজির (কবিতা), মিছিলেও প্রেম হয় -শিউলি খান (কবিতা), শুধু তোমারই জন্য -জিয়াউল হায়দার মোল্লা জিয়া (কবিতা), ভাবনার অন্তরালে -এম খলিলুল্লাহ খান (কবিতা), চুকনগর গণহত্যা -অধ্যক্ষ খান আখতার হোসেন (স্বাধীনতার ইতিহাস), মিনির সাথেই বিয়ে -অধ্যক্ষ খান আখতার হোসেন (শিশুতোষ গল্প), মুক্ত বিহঙ্গ -নজরুল ইসলাম (কবিতা), মেছো ভূত -অধ্যক্ষ খান আখতার হোসেন (শিশুতোষ গল্প), ভেলোর মৃত্যু-অধ্যক্ষ খান আখতার হোসেন (শিশুতোষ গল্প), মেঘ পরী -অধ্যক্ষ খান আখতার হোসেন (শিশুতোষ গল্প), ভূত দাদুর ইচ্ছে পূরণ- দিলরুবা ইয়াসমিন কলি (শিশুতোষ গল্প), অনিশ্চয়তায় অবিনাস – অধ্যাপক খান আখতার হোসেন (ইতিহাস ভিত্তিক নাটক), চুকনগরের লাশ – অধ্যক্ষ খান আখতার হোসেন (গবেষণা ও ইতিহাস ভিত্তিক নাটক), আবেগী ঝড়- অধ্যক্ষ খান আখতার হোসেন (উপন্যাস), আকিলপুরের অরূপরতন – সুমন বিপ্লব (জীবনী প্রবন্ধ), ডুমুরিয়ায় শ্রেণী শত্রুর অশান্ত ঢেউ -অধ্যক্ষ খান আখতার হোসেন (গবষণা ইতিহাস প্রবন্ধ), ফড়িং মেয়ে -অধ্যক্ষ খান আখতার হোসেন (উপন্যাস), টান- অধ্যক্ষ খান আখতার হোসেন (উপন্যাস), রশ্নির আলো -সৈয়দা রশ্নী সুলতানা (ছোট গল্প), ঝরা পাতার পদাবলি- অসীম রায় (কবিতা)।

অনুষ্ঠানের শুরুর পূর্বে গাঙচিলের লেখকগণ বইমেলা প্রঙ্গনে মাথায় গাঙচিলের লোগোযুক্ত ক্যাপ ও ব্যাজ পরে ব্যানার হাতে মিছিল নিয়ে মঞ্চে যায়। যা এক নতুন অনুভূতির সৃষ্টি করে।

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।