খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

তানোর কৃষি কর্মকর্তা স্টেশনে থাকেন না 

রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
তানোর কৃষি কর্মকর্তা স্টেশনে থাকেন না 
রাজশাহীর তানোরের বহুল আলোচিত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ আবারো তদ্বিরের মাধ্যমে তার (স্ট্যন্ড রিলিজ) বদলী আদেশ রোহিত করে ফের আলোচনায় উঠে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ উপ-পরিচালকের নেপথ্যে মদদে তিনি নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। উপর মহলের আর্শীবাদ থাকায় ৭ বছর একই কর্মস্থলে চাকরি করে যাচ্ছেন। নিয়মিত অফিস না করা ও স্টেশনে না থাকাসহ নানা অভিযোগ উঠলেও তার টিকিটিও কেউ ছুঁতে পারেনি। একাধিকবার বদলী করা হলেও তিনি তা বার বার ঠেকিয়ে দিচ্ছেন,তাকে সহযোগিতা করছে উপ-পরিচালক বলে আলোচনা রয়েছে।
এদিকে তদবিরে তকদির মিলে সমাজে যুগের পর যুগ ধরে চলে আশা সেই প্রবাদ বাক্যকে সত্য বলে প্রমাণ করলেন কৃষি কর্মকর্তা তার বদলী আদেশ রোহিত করে। তার স্ট্যান্ড রিলিজ রোহিত করার খবরে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কৃষকদের মাঝে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে।এদিকে সরকারি  চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে দীর্ঘদিন একই স্থানে  চাকরির সুবাদে কৃষি অফিস আকুন্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে বলে কৃষকেরা মনে করছে। কৃষকেরা জানান, তিনি অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিয়ে কৃষি অফিসটাকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করছেন। কৃষকদের জন্য ধান, সয়াবিন, বাদাম ও ভুট্টা কাটার যন্ত্রপাতি বরাদ্দ এনে তা প্রকৃত কৃষকদের না দিয়ে তার পছন্দের লোকদের দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। কৃষকেরা বলেন, ট্রেনিং, প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনীর নামে কৃষকদের এনে নামমাত্র নাস্তা ও সামান্য নগদ টাকা ধরিয়ে দিয়ে সাদা কাগজ স্বাক্ষর ও টিপসই নিয়ে বিদায় করা হয়। কৃষি অফিসটা দুর্নীতি ও অনিয়মের আখড়ায় পরিণত করছেন এই দুর্নীতিবাজ  কর্মকর্তা।অহিমায়িত মডেল ঘর নির্মাণ প্রকল্পেও ভয়াবহ দুর্নীতি করা হয়েছে।ফলে বছর না পেরুতেই এসব ঘর পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে।
এছাড়াও বাংলাদেশ ও বিশ্ব ব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত উপজেলার কৃষকদের পার্টনার ফিল্ড স্কুলগুলোতে চরম অব্যবস্থাপনাসহ কৃষকদের সেশনের প্রাপ্য নাস্তা ও সম্মানি বাবদ পাওনা টাকা নয়-ছয়ের অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে কৃষি কর্মকর্তার সংশ্লিষ্ট  স্টেশনে অবস্থান করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।কিন্ত্ত এই কর্মকর্তা নীতিমালা লঙ্ঘন করে সরকারি গাড়ি নিয়ে রাজশাহী শহর থেকে অফিসে যাতায়াত করছেন।
সুত্র জানায়, সম্প্রতি উপজেলার আলোচিত কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদকে (স্ট্যান্ড রিলিজ) বদলী করা হয়েছিল। কিন্ত্ত সেখানে কৃষি কর্মকর্তার জন্য কোনো গাড়ী নাই এবং তানোরের মতো সুযোগ-সুবিধা নাই। যে কারণে তিনি সেখানে যেতে অসম্মতি প্রকাশ করে বদলী আদেশ ঠেকাতে তৎপর হয়ে উঠেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাঠকর্মী বলেন,  তিনি বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ে তদ্বির করে বদলী আদেশ ঠেকাতে সমর্থন হয়েছেন। এসব অর্থের যোগান দিতে উপজেলার সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে আনুঃপাতিক হারে অর্থ আদায় করা হয়েছে বলেও শোনা যাচ্ছে।অন্যদিকে তার বদলী আদেশ ঠেকানো নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, প্রশ্ন উঠেছে তার খুঁটির জোর কোথায় সেটা নিয়েও পাশাপাশি  বইছে মূখরুচক নানা গুঞ্জন।
এদিকে আলোচিত এই কৃষি কর্মকর্তার বদলী আদেশ ঠেকানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে উপজেলার কৃষক সমাজ ও  অধিকাংশ
সার-কীটনাশক ব্যবসায়ীর মধ্যে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। উপজেলার কৃষকেরা সরেজমিন অনুসন্ধান করে এই কৃষি কর্মকর্তার বদলী আদেশ পুনর্বহালের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কৃষি অফিসের এক কর্মকর্তা  বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে অন্য উপজেলায় বদলী করা হয় তবে তিনি বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বদলী আদেশ রোহিত করেন। তিনি বলেন, স্ট্যান্ড রিলিজের আদেশ যদি স্থগিত হয় তাহলে সেই দপ্তরে শৃঙ্খলা বলে আর কিছু থাকে না। এটা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জন্যও লজ্জার। এ বিষয়ে তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ নানা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে বদলী বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননিন

এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

কে এম রাজিব
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পটে বেশি গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। রোববার ( ২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টায় নগরীর সাগরিকা মোড় সংলগ্ন কাজীর দীঘি এলাকায় চসিকের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে মেয়র এ কথা জানান। একই সঙ্গে নগরবাসীকে নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং ঘুমানোর সময় নিয়মিত মশারি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

 

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চসিকের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পট এলাকাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এসব এলাকায় মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বাড়ছে। এ কারণে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে চসিকের মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচের ট্রে, নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র ও অন্যান্য পরিত্যক্ত সামগ্রীও দ্রুত অপসারণ করতে হবে। তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন—এই অভ্যাস নগরবাসীকে গড়ে তুলতে হবে। নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, অন্যকেও সচেতন করুন। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়। তাই দিনের বেলায় সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঘুমানোর সময় সবসময় মশারি ব্যবহার করতে হবে।