খুলনা ফুলতলা তে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের আড়ালে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের দৌরাত্মক বেশি
খুলনা ফুলতলায় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা পরিসংখ্যনে বের হয়ে এলো চাঞ্চল্যকার তথ্য। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরে সারা বাংলাদেশে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবারও যাচাই-বাছাই এর প্রক্রিয়াশুরু করেছে সরকার, কেননা বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের বিপরীতে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের দৌরাত্ম্য বেশি ছিল। উক্ত সংখ্যায় ফুলতলাতে ৮২ জন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে মাত্র ৪জনের নাম প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় উল্লেখ করেছেন সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা ওসমান আলী শেখ।
১৯৭১ সালে পাকহানাদার বাহিনীদের সাথে বাংলাদেশের সূর্য সন্তানেরা এক সাগর রক্তের বিনিময়ে যে অর্জিত স্বাধীনতা অর্জন করেছিল তা আজও অটুট এবং ইতিহাসের পাতায় অম্লান হয়ে আছে।
বাংলাদেশের সেই সকল বীর মুক্তিযোদ্ধারা অনেকেই ইন্তেকাল করে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে, আবার অনেকেই জীবিত আছেন যারা সরকারের মুক্তিযোদ্ধা ভাতা প্রাপ্ত, যার মধ্যে অনেকেই রয়েছেন ভুয়া এবং বিগত আওয়ামী সরকারের প্রভাব খাটিয়ে মুক্তিযোদ্ধা বনে যাওয়া।
খুলনা ফুলতলা তে প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য, জানা যায় ফুলতলা থানাতে ৮২ জন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে মাত্র চারজনের নাম রয়েছে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায়। কিন্তু ফুলতলা তে দেখা যাচ্ছে সরকারের গেজেট প্রাপ্ত হয়ে অনেকেই মুক্তিযোদ্ধার সম্মানে বাড়ি এবং ভাতা গ্রহণ করে চলেছে। আবার অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা এখনো পর্যন্ত তালিকাভুক্ত হয়নি।
বিগত আওয়ামীশাসন আমলে খুলনা ফুলতলা, খানজাহান, আলী,সহ অভয়নগরের পার্শ্ববর্তী থানা গুলো তে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদেরকে খুঁজতে যেয়ে ফুলতলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কাজী তাবারাক হোসেন তাবু কাজীর ভাই ডেপুটি কমান্ডার কাজী ফরহাদ হোসেন খোকনের নিকট মুক্তিযোদ্ধাদের ইতিহাস জানা গেল ।
এ ব্যাপারে ঢাকার ডাকের গভীর অনুসন্ধান চালিয়ে ফুলতলা থানা তে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় গেজেট প্রাপ্ত, অনেক মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কথা বলে বিগত দিনে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা বা সম্মুখ যুদ্ধেঅংশ নিয়েছিল এমন তথ্য প্রকাশ করল ফুলতলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
খুলনা ফুলতলা থানাতে বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কাজী জাফরের নিকট প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা জানতে চাইলে তিনি বলেন ফুলতলা তে ২/৪ জন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে আমরা তাদের ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেব।
অপরদিকে ফুলতলা থানাতে নির্বাচিত ডেপুটি কমান্ডার কাজী ফরহাদ হোসেন খোকন, এমন দাবি করেছে ফুলতলা থানাতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। যার মধ্য আসাদুজ্জামান অরুণ রাজাকারের সহযোগী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
আবার তার বিরুদ্ধে তার আপন মৃত ভাইয়ের আনসারের ভাতা নিজেই উত্তোলন করার অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগীর পরিবার হতে।
ফুলতলার নির্বাচিত মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার কাজী ফরহাদ হোসেন খোকন এমন দাবি করেছে কাজী জাফর উদ্দিন ও কাজী আশরাফ হোসেন আশু প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধ নয় তাদের ব্যাপারে ঢাকুরিয়া এলাকার বিএনপি’নেতা সিদ্দিকের বাড়িতে ডাকাতি করা অবস্থায় জনতার হাতে ধরা পরে।
এ ব্যাপারে বর্তমান ফুলতলা থানার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কাজী জাফর উদ্দিনের নিকট ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপি নেতা সিদ্দিকের বাড়িতে ডাকাতি কালে জনতার হাতে ধরা পড়ার ঘটনা জানতে চাইলে, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কাজী জাফরউদ্দিন বলে, ফরহাদ হোসেন খোকন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার এবং অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তবে ফুলতলার বর্তমান গেজেট প্রাপ্ত মুক্তিযুদ্ধাদের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ মজিদ, শুবোধ মাস্টার সহ অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায় তারা বলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কাজী তাবারক হোসেন তাবু ও তার ভাই কাজী ফরহাদ হোসেন খোকন সহ হাতে গুনা কিছু লোক মাত্র।
মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কথা বলে মুক্তিযোদ্ধার ইতিহাস এবং কোন সেক্টরে তারা যুদ্ধ করেছিল তাদের সেক্টর কমান্ডার কে ছিল মুক্তিযোদ্ধা নাম্বার ইত্যাদি বিষয় জানতে চাইলে বিশেষ করে অনেকের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা সেজে থাকা আসাদুজ্জামান অরুণ কিছুই বলতে পারিনি।
সমগ্র বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় বাংলাদেশে মোট গেজেট ভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ১ লাখ ৯৮ হাজার,৩৭ জন। এদের মধ্যেও প্রায়১ লাহ্ম ৮৫ থেকে ১ লাখ ৯২ হাজার জন নিয়মিত রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা গ্রহণ করছে যা আওয়ামী দূর শাসন আমলে এ সকল বীর মুক্তিযোদ্ধারা গেজেটভুক্ত হয়েছে। যাদের মধ্যে অনেকেই এখনো ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় রাষ্ট্রীয় ভাতা গ্রহণ করছে।

আপনার মতামত লিখুন