খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

দুর্গাপুর উপজেলা পরিদর্শনে রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহীদুল ইসলাম

মোস্তাফিজুর রহমান রানা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১১ অপরাহ্ণ
দুর্গাপুর উপজেলা পরিদর্শনে রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহীদুল ইসলাম

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহীদুল ইসলাম। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে তিনি দুর্গাপুর উপজেলায় পৌঁছে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনের শুরুতে জেলা প্রশাসক দুর্গাপুর থানা পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি থানার সার্বিক কার্যক্রম, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পরে তিনি দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের চিকিৎসাসেবা, ওষুধপ্রাপ্তি ও সার্বিক সুবিধা সম্পর্কে খোঁজ নেন। রোগীদের কাছ থেকে চিকিৎসাসেবার বিষয়ে সরাসরি মতামতও গ্রহণ করেন তিনি।
এরপর পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুর্গাপুর পৌরসভার উদ্যোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে কয়েকটি ফলজ বৃক্ষরোপণ করেন জেলা প্রশাসক। এ সময় তিনি বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করতে হবে।
জেলা প্রশাসক পরিদর্শনকালে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও ঘুরে দেখেন। তিনি দুর্গাপুর উপজেলার হাটকানপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে তাদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় শিক্ষার্থীদের মাঝে টিফিন বক্স বিতরণ করা হয়।
এ ছাড়া তিনি লক্ষণখলসী ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শন করেন। সেখানে ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং সেবাগ্রহীতাদের যাতে দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা দেওয়া হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।
দিনব্যাপী পরিদর্শন শেষে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জেলা প্রশাসক উপজেলা পরিষদে পৌঁছালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উম্মে হাবিবা ফারজানা তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। পরে উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন জেলা প্রশাসক।

এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক কাজী শহীদুল ইসলাম বলেন,আমরা মাসে বা ১৫ দিনে নিয়মিতভাবে উপজেলাগুলো পরিদর্শনে আসি। আপনাদেরও দায়িত্ব হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সকল কাজে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করা।” তিনি সরকারি সেবার মান আরও উন্নত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের এই পরিদর্শন। পরিদর্শনকালে তিনি বিভিন্ন দপ্তরের চলমান কার্যক্রম, জনসেবার মান এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করেন।
জেলা প্রশাসক বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে আরও দক্ষতা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উৎসাহিত করেন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষ যেন সরকারি সেবার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন এবং দ্রুততার সঙ্গে কাঙ্ক্ষিত সেবা পান, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রুহুল আমিন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মেহেদী হাসান, দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পঞ্চনন্দ সরকার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান, একাডেমিক সুপারভাইজার মহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় সাংবাদিকরা।
জেলা প্রশাসকের এই পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য দেখা যায়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জেলা প্রশাসনের নিয়মিত এমন পরিদর্শনের মাধ্যমে সরকারি সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে এবং দুর্গাপুর উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
মোস্তাফিজুর রহমান রানা
১১/০৮/২৬

এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

কে এম রাজিব
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পটে বেশি গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। রোববার ( ২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টায় নগরীর সাগরিকা মোড় সংলগ্ন কাজীর দীঘি এলাকায় চসিকের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে মেয়র এ কথা জানান। একই সঙ্গে নগরবাসীকে নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং ঘুমানোর সময় নিয়মিত মশারি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

 

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চসিকের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পট এলাকাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এসব এলাকায় মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বাড়ছে। এ কারণে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে চসিকের মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচের ট্রে, নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র ও অন্যান্য পরিত্যক্ত সামগ্রীও দ্রুত অপসারণ করতে হবে। তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন—এই অভ্যাস নগরবাসীকে গড়ে তুলতে হবে। নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, অন্যকেও সচেতন করুন। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়। তাই দিনের বেলায় সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঘুমানোর সময় সবসময় মশারি ব্যবহার করতে হবে।