খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

মাগুরায় স্বামীকে গলা কেটে হত্যা, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আটক

সোহেল রানা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০৭ অপরাহ্ণ
মাগুরায় স্বামীকে গলা কেটে হত্যা, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আটক

মাগুরার শ্রীপুরে ঘুমন্ত স্বামীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। আজ শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার আমলসার ইউনিয়নের পূর্ব রাজাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী ফারজানা আক্তারকে পুলিশ আটক করে।

নিহত মো. রাব্বি মন্ডল (৩৩) ওই গ্রামের মো. নজরুল মন্ডলের ছেলে। তিনি পেশায় বালু ব্যবসায়ী। তার পাঁচ বছর বয়সী একটি মেয়ে মোছাঃ রুবাইয়া রয়েছে। অভিযুক্ত স্ত্রী ফারজানা আক্তার (২৭) চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত থেকে রাব্বি মন্ডল ও তার স্ত্রী ফারজানা আক্তারের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। এরই জেরে শুক্রবার ভোরে নিজ ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় রাব্বির গলা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে দেয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবারের দাবি, শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৭ টার দিকে ফারজানার বাবা ফয়জার তাদের ফোন করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে জানান। খবর পেয়ে রাব্বির বাবা বাড়িতে গিয়ে ছেলের রক্তাক্ত মরদেহ খাটের ওপর পড়ে থাকতে দেখেন।

ঘটনার পর ফারজানা আক্তার তার বাবার বাড়ি শ্রীপুর উপজেলার আমতৈল গ্রামে চলে যান বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি দা জব্দ করা হয়েছে।

নিহতের বাবা নজরুল মন্ডল অভিযোগ করে বলেন, “রাব্বি ১০ থেকে ১২ দিন আগে শ্বশুরবাড়ি আমতৈল গ্রামে গিয়েছিল। সেখানে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির হয়। আজ সকালে খবর পেয়ে বাড়িতে গিয়ে দেখি, আমার ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় খাটের ওপর পড়ে আছে। আমরা ছেলের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।
খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পাশাপাশি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ ও তদন্ত শুরু করেছেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওলি মিয়া জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার ও আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক কলহের জেরে হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ফারজানা আক্তারকে পুলিশ আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

কে এম রাজিব
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পটে বেশি গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। রোববার ( ২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টায় নগরীর সাগরিকা মোড় সংলগ্ন কাজীর দীঘি এলাকায় চসিকের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে মেয়র এ কথা জানান। একই সঙ্গে নগরবাসীকে নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং ঘুমানোর সময় নিয়মিত মশারি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

 

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চসিকের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পট এলাকাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এসব এলাকায় মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বাড়ছে। এ কারণে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে চসিকের মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচের ট্রে, নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র ও অন্যান্য পরিত্যক্ত সামগ্রীও দ্রুত অপসারণ করতে হবে। তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন—এই অভ্যাস নগরবাসীকে গড়ে তুলতে হবে। নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, অন্যকেও সচেতন করুন। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়। তাই দিনের বেলায় সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঘুমানোর সময় সবসময় মশারি ব্যবহার করতে হবে।