খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সকলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু  প্রতিরোধে সকলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে

বিশেষ প্রতিনিধি: প্রতি শনিবার ‘ক্লিনিং ডে’ উপলক্ষে আয়োজিত ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি নাগরিকদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। সপ্তাহে অন্তত এক দিন নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখলে এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হলে ঢাকা শহর অপরিচ্ছন্ন থাকবে না।

১০ অক্টোবর শনিবার রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে আয়োজিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে শিক্ষক ও অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন ডিএসসিসির সকল ওয়ার্ডে একযোগে ‘ক্লিনিং ডে’ পালন করা হয়।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সরকারের নির্দেশনায় নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রতি শনিবার বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে। ঘোষিত তিন মাসের কর্মসূচি নিরলস ও সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে নগরের রাস্তাঘাট ও বাড়ির আঙিনা পরিচ্ছন্ন থাকবে এবং ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগবালাইয়ের ঝুঁকি কমে আসবে।সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার কাজ করবেন, তবে এ কর্মসূচি সফল করতে জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে। এ জন্য স্কুল, কলেজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্কাউট, রোভার স্কাউট, গার্লস গাইড ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, “প্রতিদিন বৃষ্টি হচ্ছে এবং বৃষ্টির পর বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকে। তিন দিনের বেশি কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না।  কোথাও ব্যক্তিগতভাবে জমে থাকা পানি অপসারণ সম্ভব না হলে সিটি কর্পোরেশনকে জানাতে হবে; কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে তা অপসারণ করা হবে।গণমাধ্যমে এ কর্মসূচি প্রচারিত হওয়ায় জনগণের মধ্যে ইতোমধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়েছে। জনগণের পূর্ণাঙ্গ সচেতনতা অর্জিত হলে এ কর্মসূচি সম্পূর্ণ সফল হবে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মাহবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানসহ কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

স্বামীবাগ শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রম্মচারী আশ্রম ও মন্দিরে বস্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসি’র প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, “ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি বা ব্যবসা নয়, বরং মানুষ হিসেবে সবাইকে সমানভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—এই নীতিতে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান—ধর্মীয় পরিচয় যা-ই হোক, এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা সমান।

সব ধর্মেই মানবিকতা, নৈতিকতা ও ভালো কাজের শিক্ষা রয়েছে। শুধু ধর্মীয় বাণী উচ্চারণ করলেই হবে না, সেগুলো ব্যক্তিজীবনে চর্চা করতে হবে। সমাজ থেকে অনৈতিকতা, মাদক ও অসহিষ্ণুতা দূর করতে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার বিকল্প নেই। ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।হিন্দু সম্প্রদায়ের কল্যাণে সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস