খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার রোধে একসাথে কাজ করবে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার রোধে একসাথে কাজ করবে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন

বিশেষ প্রতিনিধি: বৈধ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিতকরণ, অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার রোধ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের দক্ষ কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে এক দ্বিপক্ষীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১২ অক্টোবর সোমবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং ইইউ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও অভিবাসন’ বিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার।

সভায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। অনিয়মিত অভিবাসন রোধ ও অভিবাসন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার ইতোমধ্যে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ৫২টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।দক্ষতা উন্নয়নে বাংলাদেশ ইইউ-এর ‘ট্যালেন্ট পার্টনার’ হিসেবে কাজ করছে। আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মীদের ইউরোপের বাজারে প্রবেশাধিকার আরও সম্প্রসারণ করার জন্য।

মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মোখতার আহমেদ জানান, বাংলাদেশ নিরাপদ, শৃঙ্খলিত ও নিয়মিত অভিবাসনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাছাড়া ‘বাংলাদেশ-ইইউ ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’-এর অধীনে আইসিটি, নির্মাণ, টেক্সটাইল, জাহাজ নির্মাণ, কৃষি ও হসপিটালিটি খাতে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে তিনি ইইউ-এর পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করেন। এছাড়া ইউরোপীয় মানদণ্ডে দক্ষতা মূল্যায়ন, সনদ প্রদান, ভাষা প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল নিয়োগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ‘জাতীয় পুনর্বাসন নীতি ২০২৫’ অনুযায়ী প্রত্যাগত কর্মীদের পুনর্বাসনে ইইউ-এর সহায়তা চেয়েছেন।

ইইউ কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার জানান, অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার দমনের পাশাপাশি বৈধ পথে অভিবাসন নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে বৈধভাবে প্রায় ৫ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন।বাংলাদেশে স্থিতিশীল সরকার ও স্থিতিশীল পরিস্থিতির বিরাজ করার ফলে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটেছে এবং বাংলাদেশকে ‘সেইফ কান্ট্রি’ (নিরাপদ দেশ) হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মোঃ শাকিরুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত সচিব মোঃ সাইফুল ইসলাম, বোয়োসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হক, যুগ্মসচিব মোঃ শহিদুল ইসলাম চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলে কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পরিচালক হেনরিক নীলসেন,  ক্যাবিনেট মেম্বার গ্রিগোরিওস ডেলাভেকোরাস এবং কমিশনারের যোগাযোগ উপদেষ্টা লুকাস গাসনার।

এছাড়া ইইউ ডেলেগেশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত এইচ.ই. মাইকেল মিলার, ডেপুটি হেড অব ডেলেগেশন বাইবা জারিনা এবং ফার্স্ট কাউন্সেলর ও পলিটিক্যাল অফিসার কামিলা পার্টিস্কা।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস