খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় অগ্রনী ভূমিকা পালন করছে ইউএনডিপি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় অগ্রনী ভূমিকা পালন করছে ইউএনডিপি

বিশেষ প্রতিনিধি: ১২ অক্টোবর সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সাথে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগস-এর এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইউএনডিপি প্রতিনিধিদলে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপ-আবাসিক প্রতিনিধি সোনালী দায়ারত্নে, সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি আনোয়ারুল হক, সিনিয়র গভর্ন্যান্স স্পেশালিস্ট তানভীর মাহমুদ এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের ‘স্ট্রেনদেনিং ইনস্টিটিউশনস, পলিসিস অ্যান্ড সার্ভিসেস’ (SIPS) প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মাহমুদুল হাসান। এছাড়াও উক্ত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটের (জিআইইউ) মহাপরিচালক ড. দেলোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

ইউএনডিপি আবাসিক প্রতিনিধি উপদেষ্টা মহোদয়কে বাংলাদেশে ইউএনডিপির চলমান কার্যক্রম, বিশেষ করে গভর্ন্যান্স ইনোভেশন, পাবলিক সেক্টর সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণ এবং নাগরিক-কেন্দ্রিক সেবা নিশ্চিতকরণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটের (জিআইইউ) সাথে অংশীদারিত্বের বিষয়ে অবহিত করেন। এই যৌথ অংশীদারিত্ব একটি অধিকতর সাড়া প্রদানকারী, জনবান্ধব, তথ্য-প্রমাণ নির্ভর এবং জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করে। বৈঠকে উভয় পক্ষ ভবিষ্যতের সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন।

উপদেষ্টা বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ইউএনডিপির অব্যাহত সহায়তার জন্য সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ইউএনডিপি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের একটি অন্যতম বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী।

প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ সুশাসন উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে ইউএনডিপির অধিকতর সহায়তা কামনা করেন। একই সাথে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নাগরিক-কেন্দ্রিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন এবং সেবা সহজীকরণ প্রক্রিয়ায় ইউএনডিপির সহযোগিতার আহ্বান জানান।

ইউএনডিপি বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক ক্ষেত্রসমূহ এবং সংস্কার এজেন্ডা, বিশেষ করে গভর্ন্যান্স ইনোভেশন, পাবলিক সেক্টর সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণ এবং নাগরিক-কেন্দ্রিক সেবা প্রদানে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে তাদের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস