খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

শরতের বিদায় ও শীতের আহ্বান: শিশিরভেজা ভোরে সোনালি স্বপ্নের প্রহর

মোঃ আবু হুরাইরা মিয়া
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৭ অপরাহ্ণ
শরতের বিদায় ও শীতের আহ্বান: শিশিরভেজা ভোরে সোনালি স্বপ্নের প্রহর

সন্ধ্যার পর বাতাস বদলাতে শুরু করেছে। গায়ে মাখলেই বোঝা যায়—হালকা এক শীতের পরশ। গ্রামবাংলার মেঠোপথ থেকে শুরু করে দিগন্তজোড়া ধানক্ষেতে এখন এক নতুন রূপ। ধানের পাতায় পাতায় জমে থাকা ফোঁটা ফোঁটা শিশির কণা যেন ভোরের রোদে হীরের মতো জ্বলজ্বল করে ওঠে। প্রকৃতিতে এসেছে হেমন্ত, আর এই হেমন্তই জানান দিচ্ছে দুয়ারে কড়া নাড়ছে নভেম্বর-ডিসেম্বরের শীতের ভরা মৌসুম।

শিশিরস্নাত ধানক্ষেত ও হেমন্তের ক্যানভাস কার্তিক-অগ্রহায়ণের এই সন্ধিক্ষণে চারপাশের সবুজ রূপালী আবহ ধারণ করে। রোপণ করা আমন ধানের শীর্ষ এখন পুষ্ট হতে শুরু করেছে। হাওয়া দোলা দিলে ধানের পাতায় জমে থাকা শিশিরবিন্দু ঝরে পড়ে মাটিতে। এটি কেবল এক ঋতু পরিবর্তন নয়, এটি বাংলার কৃষকের জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। নবান্নের ঘ্রাণ আর নতুন ধানের গন্ধে মুখরিত হওয়ার সময় এটি।
শিশিরের নরম স্পর্শে সন্ধ্যার পরপরই বাতাসে আর্দ্রতা কমে গিয়ে ঠাণ্ডার পরশ নামতে শুরু করেছে, যা শেষ রাতে বা ভোরের দিকে কুয়াশার চাদরে ঢেকে দিচ্ছে চতুর্দিক। সোনালী সবুজ ধানের পাতায় শিশিরের ফোঁটা কেবল প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, বরং এটি নির্দেশ করে ফসলের মাঠ এখন ঘরে তোলার অপেক্ষায়।
আসছে নভেম্বর-ডিসেম্বর: শীতের ভরা মৌসুমের রূপরেখা, সামনের দিনগুলোতে ঋতুচক্রের এই আবর্তন আরও রূপ বদলাবে। নভেম্বর গড়াতেই শীতের আমেজ পরিণত হবে পুরোপুরি হিমেল হাওয়ায়, আর ডিসেম্বর এনে দেবে জাঁকিয়ে বসা শীতের আবহ। বর্তমান সন্ধ্যার পর হালকা ঠান্ডা, পাতায় শিশির জমা হালকা চাদর বা গরম কাপড়ের প্রস্তুতি। নভেম্বর (হেমন্তের শেষ) ঘন কুয়াশা, তাপমাত্রা হ্রাস গাছিদের খেজুর রস সংগ্রহের ব্যস্ততা, পিঠেপুলির সূচনা। ডিসেম্বর (শীতের চূড়া) শৈত্যপ্রবাহ, কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল রোদে পিঠ দিয়ে বসা, পিঠা উৎসব, নতুন ধানের নবান্ন, শীতকাল মানেই কেবল ঠান্ডা হাওয়া নয়, এটি বাংলার গ্রামীণ সংস্কৃতিতে এক বিরাট উৎসবের রূপ নেয়: শীতের আগমনী বার্তার সাথে সাথেই শুরু হয়ে গেছে খেজুর গাছ হাঁড়ানো ও চাঁছার কাজ। নভেম্বরের শুরু থেকেই পাওয়া যাবে তাজা খেজুরের রস আর নলেন গুড়। নতুন চালের আটা আর খেজুুুরের গুড় দিয়ে ঘরে ঘরে তৈরি হবে ভাপা, চিতই, আর রসচিতই পিঠা।
শহরের জ্যাকেট-সোয়েটার কিংবা গ্রামের কাঁথা জড়ানোর প্রস্তুতি এখন ঘরে ঘরে। প্রকৃতি তার নিজস্ব নিয়মে রূপ পাল্টাচ্ছে। আজকের এই হালকা শিশিরবিন্দু কালকের ঘন কুয়াশার ইঙ্গিত দিচ্ছে। নভেম্বরের হিমেল হাওয়া আর ডিসেম্বরের কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর আমাদের অভ্যর্থনা জানাতে তৈরি। প্রকৃতির এই নরম পরিবর্তনকে সঙ্গী করে সামনের শীতের দিনগুলো সবার জীবনে নিয়ে আসুক উষ্ণতা ও আনন্দের ছোঁয়া।

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস