খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

আইনজীবীদের পেশাগত মর্যাদা বাড়াতে জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিকতার সমন্বয় জরুরি: আইনমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
আইনজীবীদের পেশাগত মর্যাদা বাড়াতে জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিকতার সমন্বয় জরুরি: আইনমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি: আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের উপযোগী মেধাবী, দক্ষ ও নৈতিকতাসম্পন্ন আইনজীবী গড়ে তুলতে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের ইন্টার্নশিপ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আইন পেশায় সফল হতে আইনের জ্ঞানের পাশাপাশি অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন এবং নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘AGO–UNDP Internship Programme’-এর দ্বিতীয় ব্যাচের সমাপনী এবং তৃতীয় ব্যাচের ইন্টার্নদের বরণ উপলক্ষে আয়োজিত ‘Convocation & Orientation’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করা মেধাবী তরুণদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের উপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ ইন্টার্নশিপ কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিবছর অন্তত ১০০ জন ইন্টার্নের মাধ্যমে পাঁচ বছরে ৫০০ জনকে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবং মেধাভিত্তিক, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি আদালত ও আইন পেশার বাস্তব অভিজ্ঞতা তরুণদের দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তব কর্মপরিবেশ সম্পর্কে ধারণা লাভ এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন।আইন পেশায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে আইনজীবীদের প্রস্তুত থাকতে হবে। এ জন্য বিশ্লেষণী চিন্তা, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কার্যকরভাবে কাজ করার সক্ষমতা অর্জন জরুরি।

আইন প্রণয়ন ও সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি মানবাধিকার কমিশন আইন, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন এবং সাইবার আইন সংশোধনসহ বিভিন্ন বিষয়ে চলমান কাজের কথা তুলে ধরেন। এসব আইনের খসড়া প্রণয়ন ও পর্যালোচনায় তরুণ আইনজীবীদের মেধা, জ্ঞান ও সৃজনশীলতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।আইনজীবীদের সমাজের বিভিন্ন অসংগতি চিহ্নিত করার পাশাপাশি সেগুলো দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। সমাজের সমস্যা সমাধান ও ইতিবাচক পরিবর্তনে অবদান রাখার কারণেই আইনজীবীদের সমাজের প্রকৌশলী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

পেশাগত সাফল্যের সঙ্গে সততা, জবাবদিহি ও নৈতিকতার সমন্বয় অপরিহার্য। মক্কেলের সঙ্গে প্রতারণা, অর্থের প্রতি অতিরিক্ত লোভ কিংবা বিচারপ্রক্রিয়াকে অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা আইন পেশার মর্যাদার পরিপন্থী। এ ক্ষেত্রে আইনজীবীদের পেশাগত আচরণবিধির যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আইনমন্ত্রী আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনজীবীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, একজন দক্ষ আইনজীবী হওয়ার পাশাপাশি মানবিক ও নীতিবান মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠা এবং জাতি গঠনে অবদান রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের এ ইন্টার্নশিপ কর্মসূচি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দক্ষ, মানবিক ও নৈতিকতাসম্পন্ন আইনজীবী গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। এ উদ্যোগে সহযোগিতার জন্য তিনি ইউএনডিপি, বাংলাদেশ এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়কে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের সভাপতিত্বে এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার তাসনোভা শেলির সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন

ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিকস, বাংলাদেশে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস,পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জাহরাত আদিব চৌধুরী, ইউএনডিপি বাংলাদেশের রুল অব ল অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস প্রোগ্রামের সিনিয়র অ্যাডভাইজার রোমানা শোয়াইগার ও   অ্যানালিস্ট জিনবো চোই- সহ অন্যরা।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস

 

 

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস