স্ত্রীকে হত্যা করে আত্মহত্যা সাজানোর চেষ্টা, পুলিশের জালে স্বামী
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় টিকটক ব্যবহারকে কেন্দ্র করে দাম্পত্য কলহের জেরে সুমনা ফেরদৌসী (৩৮) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী লিমন মল্লিকের (২৭) বিরুদ্ধে। ঘটনার পর হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। একই রাতে পুলিশ লিমন মল্লিককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
নিহত সুমনা ফেরদৌসী লোহাগড়া উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামের বাসিন্দা লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরির সময় লিমন ও সুমনার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর সুমনাকে নিয়ে নিজ গ্রামে বসবাস শুরু করেন লিমন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে ভিডিও প্রকাশ এবং অনলাইনে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সোমবার সকালে এ বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, বাকবিতণ্ডার সময় লিমন মল্লিক স্ত্রীকে মারধর করেন। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বাভাবিকভাবে কর্মস্থলে চলে যান। পরে বিকেলে বাড়িতে ফিরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
সুরতহাল প্রতিবেদনে বেশ কিছু অসঙ্গতি পাওয়া গেলে পুলিশ ঘটনাটিকে সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করে। পরে লিমন মল্লিককে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর জন্য মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন