খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

বাগমারাতে প্রশাসনের নির্দেশনার ৬ বছর পরও উচ্ছেদ হয়নি দখলদাররা

রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ৬:৩১ অপরাহ্ণ
বাগমারাতে প্রশাসনের নির্দেশনার ৬ বছর পরও উচ্ছেদ হয়নি দখলদাররা

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গণিপুর ইউনিয়নের মাঝিগ্রামে সরকারি রাস্তার জমি দখলমুক্ত না করেই হেরিংবোন (ইটের) সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে সরকারি রাস্তা দখল করে রাখায় প্রশাসনের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়নি। ফলে বিকল্প হিসেবে রাস্তা বাঁকিয়ে নির্মাণ করতে হয়েছে। বর্তমানে একই স্থানে পাকা সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দখলমুক্ত না করে কাজ শুরু হলে সরকারি রাস্তা স্থায়ীভাবে বাঁকা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে সরকারি রাস্তার জমি দখলের অভিযোগে প্রথম বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। পরে ২০২০ সালের ২৯ জুন এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে পুনরায় ইউএনও বরাবর আবেদন করেন। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ সালে জোবায়েদ হোসেনের বাড়ির সামনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি এবং জোবায়েদ হোসেন, সভাপতি, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, বাগমারা উপজেলা শাখা” লেখা একটি সাইনবোর্ড টানানো ছিল।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সে সময় একাধিক অভিযোগ, মানববন্ধন ও প্রশাসনিক উদ্যোগের পরও দখল অপসারণ না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিকল্প হিসেবে বাঁকা পথেই হেরিংবোন সড়ক নির্মাণ করে। পরে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান সরেজমিন পরিদর্শন ও মাপজোখ শেষে দখলদারদের ২১ দিনের মধ্যে সরকারি জমি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন হয়নি।

 

২০২১ সালে এলাকাবাসী তৎকালীন জেলা প্রশাসকের কাছেও আবেদন করেন। সর্বশেষ গত ২৯ জুন ২০২৬ রাজশাহীর জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর প্রধান প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নতুন করে আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে মৌজা ম্যাপ ও অনুমোদিত অ্যালাইনমেন্ট অনুযায়ী সরকারি রাস্তার সীমানা নির্ধারণ, দখলমুক্তকরণ এবং সমন্বিতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, রাস্তার দখল করায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা বহুবার তাদের রাস্তা ছেড়ে দিতে বলেছি, কিন্তু তারা শোনেনি। আগে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা সরকারি জায়গা দখল করে রেখেছিল। এখনো সেই দখল বহাল রয়েছে।

অভিযুক্ত জোবায়েদ হোসেনের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

 

এ বিষয়ে এলজিইডি রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্তে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। আমাদের কর্মকর্তা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে এখনো তাদের প্রতিবেদন হাতে পাইনি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত বলা যাবে। এছাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে নিয়ে জমির পরিমাপ করার কথাও বলা হয়েছে। পরিমাপে যদি জমি ব্যক্তিমালিকানাধীন হয়, তাহলে সেটি বিবেচনায় নেওয়া হবে। আর সরকারি জমি হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি সেখানকার ইউএনও কে বলে দিয়েছি সেটা ব্যবস্থা নিতে,পরে আর খোঁজ নেয়া হয়নি আমি খোঁজ নিব। আর আমি এটা নেক্সট মিটিংয়ে এ বিষয়টা আলোচনা করবো।

আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ আইনমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ আইনমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিদ্যমান ও উদীয়মান আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় শক্তিশালী জাতীয় পদক্ষেপের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা জোরদার এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ১৫তম জাতিসংঘ অপরাধ প্রতিরোধ ও ফৌজদারি বিচার কংগ্রেসের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে এ কথা বলেন।

২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে (ADNEC) অনুষ্ঠিত এই কংগ্রেসে আইনমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব প্রদান করছেন।

বক্তব্যে আইনমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, ন্যায়বিচারে জনগণের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা জোরদার এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।তিনি বাংলাদেশের চলমান বিচারিক সংস্কারের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং শক্তিশালী জাতীয় পদক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিদ্যমান ও উদীয়মান আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আবুধাবি ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ ফৌজদারি কার্যবিধি সংস্কারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এর মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বিচারপ্রক্রিয়ার কার্যকর ব্যবহার আরও জোরদার ও সম্প্রসারণ, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, মামলাজট কমানো এবং সময়োপযোগী ও ন্যায়সংগত বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।ভিয়েনাভিত্তিক জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (UNODC) পাঁচ বছর অন্তর অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কংগ্রেসটির আয়োজক।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম ছাড়াও আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা রয়েছেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস