বাগমারাতে প্রশাসনের নির্দেশনার ৬ বছর পরও উচ্ছেদ হয়নি দখলদাররা
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গণিপুর ইউনিয়নের মাঝিগ্রামে সরকারি রাস্তার জমি দখলমুক্ত না করেই হেরিংবোন (ইটের) সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে সরকারি রাস্তা দখল করে রাখায় প্রশাসনের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়নি। ফলে বিকল্প হিসেবে রাস্তা বাঁকিয়ে নির্মাণ করতে হয়েছে। বর্তমানে একই স্থানে পাকা সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দখলমুক্ত না করে কাজ শুরু হলে সরকারি রাস্তা স্থায়ীভাবে বাঁকা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে সরকারি রাস্তার জমি দখলের অভিযোগে প্রথম বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। পরে ২০২০ সালের ২৯ জুন এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে পুনরায় ইউএনও বরাবর আবেদন করেন। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ সালে জোবায়েদ হোসেনের বাড়ির সামনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি এবং জোবায়েদ হোসেন, সভাপতি, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, বাগমারা উপজেলা শাখা” লেখা একটি সাইনবোর্ড টানানো ছিল।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সে সময় একাধিক অভিযোগ, মানববন্ধন ও প্রশাসনিক উদ্যোগের পরও দখল অপসারণ না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিকল্প হিসেবে বাঁকা পথেই হেরিংবোন সড়ক নির্মাণ করে। পরে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান সরেজমিন পরিদর্শন ও মাপজোখ শেষে দখলদারদের ২১ দিনের মধ্যে সরকারি জমি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন হয়নি।
২০২১ সালে এলাকাবাসী তৎকালীন জেলা প্রশাসকের কাছেও আবেদন করেন। সর্বশেষ গত ২৯ জুন ২০২৬ রাজশাহীর জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর প্রধান প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নতুন করে আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে মৌজা ম্যাপ ও অনুমোদিত অ্যালাইনমেন্ট অনুযায়ী সরকারি রাস্তার সীমানা নির্ধারণ, দখলমুক্তকরণ এবং সমন্বিতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, রাস্তার দখল করায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা বহুবার তাদের রাস্তা ছেড়ে দিতে বলেছি, কিন্তু তারা শোনেনি। আগে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা সরকারি জায়গা দখল করে রেখেছিল। এখনো সেই দখল বহাল রয়েছে।
অভিযুক্ত জোবায়েদ হোসেনের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে এলজিইডি রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্তে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। আমাদের কর্মকর্তা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে এখনো তাদের প্রতিবেদন হাতে পাইনি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত বলা যাবে। এছাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে নিয়ে জমির পরিমাপ করার কথাও বলা হয়েছে। পরিমাপে যদি জমি ব্যক্তিমালিকানাধীন হয়, তাহলে সেটি বিবেচনায় নেওয়া হবে। আর সরকারি জমি হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি সেখানকার ইউএনও কে বলে দিয়েছি সেটা ব্যবস্থা নিতে,পরে আর খোঁজ নেয়া হয়নি আমি খোঁজ নিব। আর আমি এটা নেক্সট মিটিংয়ে এ বিষয়টা আলোচনা করবো।



আপনার মতামত লিখুন