খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

প্রসঙ্গ শিক্ষার্থী ধর্ষণ : প্রতিরোধ ও প্রতিকার

অধ্যক্ষ খান আখতার হোসেন
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ
প্রসঙ্গ শিক্ষার্থী ধর্ষণ : প্রতিরোধ ও প্রতিকার

ভাবতে অবাক লাগে সমাজের শিক্ষকেরা এত নিচে নামছেন কেন? কেন তারা নিজেকে সামলাতে পারছেন না? জৈবিক চাহিদা কেন তাদেরকে এতটা পশুত্ব রূপে সমাজের বুকে দাঁড় করে তুলেছে?

ডুমুরিয়ার ভান্ডারপাড়া ইউনিয়নের লোহাইডাংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্যাম সুন্দর হালদার। ১৮ জুলাই ২০২৬, শনিবার। ১১ বছরের এক ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে “ভালো রেজাল্ট ও বৃত্তি পাইয়ে দেওয়ার” প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা। চিৎকারে মানুষ এসে তাঁকে উদ্ধার করে।

এটা প্রথম না। এর আগেও ২ বার তার বিরূদ্ধে একই অভিযোগ। একবার ক্ষমা চেয়ে বদলি হয়ে বেঁচে গিয়েছিল।

শ্যাম সুন্দর নিজেকে বুদ্ধিজীবী ভাবে। অথচ একজন শিক্ষকের মুখোশে সে নিজেকে পিশাচ রূপে উপস্থাপন করেছে। এই কথাগুলো এখন এলাকায় বাতাসে উড়ে বেড়াচ্ছে।

এই একটা ঘটনা না। ২০২৪-২০২৬ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘটে যাওয়া অঘটন অন্তত ২০টির মতো ঘটনা, প্রতিবেদন, পত্রিকার খবর, অভিভাবকদের আহাজারি একই কথা বলে: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আজ আর ১০০% নিরাপদ নয়। শিক্ষক নামের কিছু মানুষরূপী পশু ছাত্র-ছাত্রীর বিশ্বাস ভেঙে দিচ্ছে।

আজ দেশবাসীর প্রশ্ন: *শিক্ষার্থী ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি কেন বাড়ছে? প্রতিরোধের উপায় কী? প্রতিকার কী?*

১. ঘটনার পুনরাবৃত্তি: ২০টি বাস্তব চিত্র থেকে পাওয়া প্যাটার্ন

গত ৩ বছরের বিভিন্ন জেলার সংবাদ ও মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্ট ঘেঁটে যে কমন চিত্র পাই:

1.*শিক্ষক কর্তৃক প্রাইভেটের নামে ডেকে নেওয়া*: ডুমুরিয়া, ফরিদপুর, গাজীপুরের একাধিক ঘটনায় “ভালো রেজাল্ট, বৃত্তি, প্রশ্ন ফাঁস” এর প্রলোভন।
2. *মাদ্রাসা-কোচিং৪ সেন্টারের হুজুর/শিক্ষক*: ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম, সিলেটে ৭-১২ বছরের ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনা। ধর্মীয় ভয় দেখানো হয়।
3. *স্কুল বাসের ড্রাইভার-হেলপার*: ঢাকার উপকণ্ঠে ৩টি ঘটনা। একা পেয়ে বাসেই নির্যাতন।<
4. *খেলার কোচ ও প্রশিক্ষক*: ২০২৫ সালে খুলনায় ক্রীড়া প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে ৪ ছাত্রীর অভিযোগ।
5. *সহপাঠী ও সিনিয়র ছাত্র*: বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে র‍্যাগিং-এর নামে যৌন হয়রানি। ২০২৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তদন্ত কমিটি গঠন হয়।
6. *স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য*: গ্রামে প্রভাব খাটিয়ে ধামাচাপা।
7. *অনলাইন শিক্ষক/টিউটর*: করোনার পর অনলাইন ক্লাসের নামে ভিডিও কল রেকর্ড করে ব্ল্যাকমেইল।

*কমন সূত্র*: ক্ষমতার অপব্যবহার + বিশ্বাস + সুযোগ + সমাজের নীরবতা।

২. কেন বাড়ছে? ৫টি মূল কারণ

*১. বিচারহীনতার সংস্কৃতি*
শ্যাম সুন্দর হালদার ২ বার অভিযোগের পরও শুধু বদলি হয়েছে। শাস্তি হয়নি। যখন অপরাধী জানে “বদলি হয়ে যাব, কিছু হবে না”, তখন সে আবার অপরাধ করে।

*২. শিক্ষকের অতি ক্ষমতা ও অন্ধ বিশ্বাস*
আমরা ছোটবেলায় শিক্ষককে “বাবার মতো” মানতাম। সেই অন্ধ বিশ্বাসের সুযোগ নেয় কিছু মানুষ। “স্যার যা বলবে তাই” – এই মানসিকতা শিশুকে প্রতিবাদ করতে দেয় না।

*৩. যৌন শিক্ষার অভাব*
১১ বছরের মেয়ে “ভালো-মন্দ স্পর্শ” এর পার্থক্য জানে না। স্কুলে পাঠ্যক্রমে বয়স উপযোগী যৌন শিক্ষা নেই। ফলে শিশু বুঝতেই পারে না তার সাথে কী হচ্ছে।

*৪. প্রাইভেট-কোচিং বাণিজ্য*
“ভালো রেজাল্ট করিয়ে দেব” – এই ব্যবসা। শিক্ষক যখন শিক্ষক না থেকে “ব্যবসায়ী” হয়, তখন সম্পর্কটা টাকার হয়ে যায়। সেখান থেকেই শোষণ শুরু।

*৫. সামাজিক লজ্জা ও ধামাচাপা*
“মান-সম্মান যাবে” বলে ৮০% ঘটনা থানায় যায় না। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মাতব্বর মিলে “ক্ষমা” করিয়ে দেয়। ফলে অপরাধী আরও সাহস পায়।

৩. ভুক্তভোগীর ক্ষতি: শুধু শরীর না, পুরো জীবন

১১ বছরের সেই মেয়েটি আজ কী ফেস করছে?
1. *মানসিক ট্রমা*: রাতে ঘুম হয় না, স্কুলে যেতে ভয় পায়।
2. *পড়াশোনায় পতন*: যে স্যারের কাছে বৃত্তির আশা করেছিল, সেই স্যারই ধর্ষক।
3. *সামাজিক কলঙ্ক*: “ওই মেয়ের চরিত্র খারাপ” – এই কথা গ্রামে ছড়ায়।
4.*আত্মবিশ্বাসহীনতা*: বড় হয়ে সম্পর্ক, বিয়েতেও এর প্রভাব পড়ে।

একটি ধর্ষণ শুধু একটি শিশুকে না, পুরো একটি পরিবার ও প্রজন্মকে শেষ করে দেয়।

*৪. প্রতিরোধ: ঘর, স্কুল ও রাষ্ট্রের ১০ দফা করণীয়*

ক. পরিবারের দায়িত্ব
1. *শরীর সম্পর্কে কথা বলুন*: ৫ বছর বয়স থেকেই শিশুকে শেখান “Good touch, Bad touch”। “তোমার শরীর তোমার, কেউ টাচ করলে আমাকে বলবে”।
2. *একা কোথাও পাঠাবেন না*: প্রাইভেট পড়তে গেলে অভিভাবক সাথে যাবেন। শিক্ষকের বাড়িতে একা নয়।
3. *সন্তানের কথা শুনুন*: “মা আজ স্যার কেমন আচরণ করেছে?” – প্রতিদিন ৫ মিনিট কথা।

খ. স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব
4. *নিরাপত্তা কমিটি*: প্রতিটি স্কুলে অভিভাবক, শিক্ষক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নিয়ে “Child Protection Committee”।
@5. *CCTV ও স্বচ্ছতা*: ক্লাসরুম, অফিস রুমে CCTV। প্রাইভেট পড়ানো স্কুলের ভেতরে নিষিদ্ধ।
6. *শিক্ষক নিয়োগে পুলিশ ভেরিফিকেশন*: অতীত রেকর্ড আছে এমন কাউকে নিয়োগ না দেওয়া। ডুমুরিয়ার শিক্ষক ২ বার অভিযোগের পরও বহাল ছিল কেন?
7. *যৌন শিক্ষা কারিকুলামে*: ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে বয়স উপযোগী “নিজেকে নিরাপদ রাখা” অধ্যায়।

গ. রাষ্ট্র ও আইনের দায়িত্ব
8. *দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল*: নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা ৯০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি।
9. *এক স্ট্রাইক নীতি*: শিক্ষক কর্তৃক শিশু নির্যাতনের প্রমাণ পেলে সরাসরি চাকরিচ্যুত + যাবজ্জীবন। বদলি নয়।
*10. *হটলাইন ও মানসিক সাপোর্ট*:

1098 শিশু হেল্পলাইন আরও জোরদার। প্রতিটি থানায় নারী-শিশু ডেস্ক।

*৫. প্রতিকার: ঘটনা ঘটে গেলে কী করবেন?*

*ধাপ ১: নিরাপত্তা*
প্রথমে শিশুকে নিরাপদ স্থানে সরান। ডাক্তার দেখান।

*ধাপ ২: প্রমাণ সংরক্ষণ*
জামা-কাপড়, মেসেজ, কল রেকর্ড নষ্ট করবেন না।

*ধাপ ৩: আইনের আশ্রয়*
থানায় মামলা করুন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০ অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত।

*ধাপ ৪: মানসিক সাপোর্ট*
সরকারি হাসপাতালে One Stop Crisis Center আছে। বিনামূল্যে কাউন্সেলিং পাওয়া যায়।

*ধাপ ৫: সামাজিক অবস্থান*
“লজ্জা”র ভয়ে চুপ থাকবেন না। বরং কথা বলুন। আপনার কথা বলাই অন্য ১০টি শিশুকে বাঁচাবে।

*৬. শিক্ষকের মর্যাদা ও নৈতিকতা ফেরানো*

আমরা শিক্ষকদের হাত থেকে লাঠি কেড়ে নিয়েছি। কিন্তু লাঠির সাথে “নৈতিকতা”ও হারিয়েছি কি?

শিক্ষক মানে “মানুষ গড়ার কারিগর”। শ্যাম সুন্দর হালদারের মতো মানুষ শিক্ষক নামের কলঙ্ক।

*তাই প্রয়োজন:*
1. *নৈতিকতা পরীক্ষা*: শিক্ষক নিয়োগের আগে মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা।
2. *বার্ষিক প্রশিক্ষণ*: “শিশু অধিকার ও নিরাপত্তা” বিষয়ে বাধ্যতামূলক ট্রেনিং।
3. *সম্মান ও বেতন*: শিক্ষককে আর্থিক নিরাপত্তা দিলে “প্রাইভেট বাণিজ্য” কমবে।

৭. সমাজের ভূমিকা: “থু থু” না, প্রতিরোধ

“ছি! তুই আমার সহপাঠী” – ঘৃণা জানানো জরুরি। কিন্তু শুধু ঘৃণা না, কাজও করতে হবে।

1. *সচেতনতা*: মহল্লায় মহল্লায় উঠান বৈঠক। বাবা-মাকে বোঝানো।
2. *মিডিয়ার ভূমিকা*: ঘটনা ফলাও করে প্রচার, কিন্তু ভিকটিমের পরিচয় গোপন।
3. *ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা*: মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসা থেকে ঘোষণা – “শিশু নির্যাতন মহাপাপ”।

*৮. অভিজ্ঞতার আলোকে*

৪০ বছর শিক্ষকতা করে নারায়ন চন্দ্র দেখেছেন অনেক ভালো শিক্ষক ও খারাপ শিক্ষক।একজন ভালো শিক্ষক ছাত্রের বাবা হয়। আর খারাপ শিক্ষক জানোয়ার হয়।

যেদিন থেকে আমরা শিক্ষককে “চাকর” ভাবতে শুরু করেছি, সেদিন থেকেই সমস্যার শুরু। আবার যেদিন থেকে কিছু শিক্ষক নিজেকে “সৃষ্টিকর্তা” ভাবতে শুরু করেছে, সেদিন থেকেও বিপদ।

*সমাধান মাঝামাঝি:*

শিক্ষককে সম্মান দিন, কিন্তু জবাবদিহির আওতায় আনুন।

*উপসংহার:*
শিশুরা বাঁচলে দেশ বাঁচবে। ডুমুরিয়ার ১১ বছরের মেয়েটি বিচার চায়। সে শুধু বৃত্তি চেয়েছিল, পড়াশোনা চেয়েছিল। সবাই যদি আজ চুপ থাকি তাহলে কাল আপনার মেয়ের পালা।

তাই আসুন ৩টি কাজ করি:
1. *সরকার*: কঠোর আইন ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করুক।
2. *স্কুল*: নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তুলুক।
3. *জনগণ*: চোখ-কান খোলা রাখি, অন্যায় দেখলে রুখে দাঁড়াই।

*শেষ কথা:*
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হবে মন্দিরের মতো পবিত্র। সেখানে কোনো শ্যাম সুন্দর হালদারের জায়গা নেই।

যে শিক্ষক শিশুর গায়ে হাত দেয়, সে শিক্ষক না। সে অপরাধী। তার বিচার চাই। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। নইলে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।

*সহায়তা প্রয়োজন হলে:*
শিশু হেল্পলাইন: 1098
নারী নির্যাতন প্রতিরোধ হেল্পলাইন: 109.

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।