খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

যানজটে স্থবির মনোহরদী, দ্রুত পদক্ষেপ জরুরি

মনোহরদী (নরসিংদী) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০৫ অপরাহ্ণ
যানজটে স্থবির মনোহরদী, দ্রুত পদক্ষেপ জরুরি

নরসিংদীর মনোহরদী পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়ক ও মোড়ে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র যানজট ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মনোহরদী বাসস্ট্যান্ড, পৌরসভা মোড়, গার্লস স্কুলের মোড় এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের এলাকায় প্রতিদিনই যানজটে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন শিক্ষার্থী, নারী, শিশু এবং জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসা রোগীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইজিবাইক, সিএনজি ও রিকশার অনিয়ন্ত্রিত অবস্থান, সড়কের ওপর বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা এবং ফুটপাত দখলের কারণে পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে।
স্কুলের মোড়ে ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা
মনোহরদী গার্লস স্কুলের মোড়ে সকাল ও স্কুল ছুটির সময়ে ইজিবাইক, সিএনজি ও রিকশার জটলা তৈরি হয়। এতে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, স্কুল শুরু ও ছুটির সময়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা গেলে ওই এলাকায় যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি দুটোই কমানো সম্ভব।
হাসপাতালের সামনে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ
যানজটের সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে। হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে যত্রতত্র যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকায় অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি রোগীবাহী গাড়ির চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
মুমূর্ষু রোগী বহনকারী কোনো অ্যাম্বুলেন্স যদি যানজটে আটকে পড়ে, তাহলে তার পরিণতি গুরুতর হতে পারে। তাই হাসপাতালের প্রধান প্রবেশপথ ও আশপাশের এলাকা সবসময় যানবাহনমুক্ত রাখা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাসস্ট্যান্ড ও পৌরসভা মোড়েও বিশৃঙ্খলা
মনোহরদী বাসস্ট্যান্ড ও পৌরসভা মোড়েও যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে মূল সড়কে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে সিএনজি ও ইজিবাইক অবস্থান নেওয়াকে।
এর পাশাপাশি ফুটপাত দখলের কারণে অনেক পথচারী বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করছেন। এতে যানজটের পাশাপাশি পথচারীদের দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
সমন্বিত উদ্যোগের দাবি
জনদুর্ভোগ কমাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটক ও আশপাশের এলাকাকে ‘নো-পার্কিং ও হর্নমুক্ত জোন’ ঘোষণা করে তা কার্যকর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া গার্লস স্কুলের মোড়ে স্কুল শুরু ও ছুটির সময়ে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বাসস্ট্যান্ড ও পৌরসভা মোড়ের মূল সড়ক থেকে অবৈধ স্ট্যান্ড সরিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে সিএনজি ও ইজিবাইকের পকেট স্ট্যান্ড স্থাপন এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করার দাবি উঠেছে।
ট্রাফিক আইন অমান্যকারী চালকদের বিরুদ্ধেও নিয়মিত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
“একটি অ্যাম্বুলেন্স যেন যানজটে আটকে না থাকে”
নরসিংদী জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. মামুনুর রহমান জাহাঙ্গীর বলেন, “মনোহরদীকে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে যানজট নিরসন এখন সময়ের দাবি। একটি অ্যাম্বুলেন্স যেন যানজটে আটকে না থাকে এবং একজন শিক্ষার্থী যেন ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পার হতে বাধ্য না হয়—এটুকু নিশ্চিত করা জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, সাময়িক অভিযান নয়, যানজট নিরসনে দৃশ্যমান, কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ প্রয়োজন।

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।