খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

চট্টগ্রামে ছাড়পত্রবিহীন ১৭ ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ দিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর

চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫০ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে ছাড়পত্রবিহীন ১৭ ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ দিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ১৭টি অবৈধভাব ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এসময় সনাতন প্রযুক্তির ড্রাম চিমনি ও ফিক্সড চিমনিবিশিষ্ট এসব ইটভাটায় আগুন না দেওয়া, জ্বালানি কাঠ ও কৃষিজমির টপসয়েল ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দিনব্যাপী বিশেষ অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ইটভাটাগুলোতে সরেজমিনে গিয়ে মালিকদের হাতে এ সংক্রান্ত নোটিশ তুলে দেন।
এসময় অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান। সঙ্গে ছিলেন রিসার্চ অফিসার মো. আশরাফ উদ্দিন, পরিদর্শক মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন ফয়সল ও পরিদর্শক চন্দন বিশ্বাস। এ সময় অবৈধ ইটভাটা পরিচালনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়।

 

 

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায় , অবস্থানগত ও পরিবেশগত ছাড়পত্রবিহীন ইটভাটার কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইটভাটা মৌসুমে এসব ভাটায় কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। নোটিশ পাওয়া ইটভাটাগুলো হলো-ইসলামপুর ৬ নম্বর ওয়ার্ড মঘাইছড়ি এলাকার মেসার্স মক্কা মদিনা ব্রিক্স (MMB), মেসার্স শাহ আমানত ব্রিকস (SAB-1), মেসার্স আবদুল করিম ব্রিকস (KBM), ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেসার্স সাদেক শাহ ব্রিকস (SSB-1), মেসার্স চট্টগ্রাম ব্রিকস (CBM), ইসলামপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেসার্স খাজা ব্রিকস অ্যান্ড ম্যানু. (KBM), মেসার্স বিসমিল্লাহ ব্রিকস (BBM-3), মেসার্স বিসমিল্লাহ খাজা আজমির ব্রিকস (BKB), আল মদিনা ব্রিকস (AMB), রাজানগর মধ্য ঘাগড়ার ত্রিপুরা সুন্দরী দিঘি এলাকার দরবার অ্যান্ড কোং (D&C), ৪ নম্বর ওয়ার্ড মাজার গেট এলাকার মেসার্স কাদেরিয়া ব্রিকস (KBM), ১ নম্বর ওয়ার্ড বহড়াতল এলাকার মেসার্স বাগদাদ ম্যানু. ব্রিকস (BMB), উত্তর ঘাগড়া এলাকার হাজী আতর আলী ব্রিকস (HAB), রাজানগর ১ নম্বর ওয়ার্ড তারাবুনিয়া এলাকার মেসার্স আজমির ব্রিকস (MAB), মেসার্স কর্ণফুলী ব্রিকস ম্যানু. (KBM), মেসার্স কে এম ব্রিকস (305) এবং মেসার্স হোসাইনুজ্জামান শাহ ব্রিকস (SYB)।

 

 

পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০), ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এবং পরিবেশ আদালত আইন, ২০১০ অনুযায়ী অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন মামলা নং ৯১৫৩/২০২০-এর আদেশ অনুযায়ী অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, নিয়মিত মামলা দায়ের, ইট, কাঠ, মাটিসহ ইট পোড়ানোর সরঞ্জাম জব্দ এবং ইটভাটা উচ্ছেদসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান বলেন, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া কোনো ইটভাটা পরিচালনার সুযোগ নেই। রাঙ্গুনিয়ার যেসব অবৈধ ইটভাটায় নোটিশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোতে আগুন দেওয়া, জ্বালানি কাঠ ব্যবহার কিংবা কৃষিজমির টপসয়েল কেটে ইট তৈরির কাজে ব্যবহার করা যাবে না।
পরিবেশ রক্ষায় আইন অনুযায়ী এ নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। নোটিশের পরও কেউ অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনা করলে তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট, মামলা, মালামাল জব্দ ও ভাটা উচ্ছেদসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ আইনমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ আইনমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিদ্যমান ও উদীয়মান আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় শক্তিশালী জাতীয় পদক্ষেপের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা জোরদার এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ১৫তম জাতিসংঘ অপরাধ প্রতিরোধ ও ফৌজদারি বিচার কংগ্রেসের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে এ কথা বলেন।

২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে (ADNEC) অনুষ্ঠিত এই কংগ্রেসে আইনমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব প্রদান করছেন।

বক্তব্যে আইনমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, ন্যায়বিচারে জনগণের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা জোরদার এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।তিনি বাংলাদেশের চলমান বিচারিক সংস্কারের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং শক্তিশালী জাতীয় পদক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিদ্যমান ও উদীয়মান আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আবুধাবি ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ ফৌজদারি কার্যবিধি সংস্কারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এর মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বিচারপ্রক্রিয়ার কার্যকর ব্যবহার আরও জোরদার ও সম্প্রসারণ, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, মামলাজট কমানো এবং সময়োপযোগী ও ন্যায়সংগত বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।ভিয়েনাভিত্তিক জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (UNODC) পাঁচ বছর অন্তর অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কংগ্রেসটির আয়োজক।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম ছাড়াও আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা রয়েছেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস