খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

বক্সিং ডে টেস্ট নামকরণের পিছনে…?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৪, ১:৫১ অপরাহ্ণ
বক্সিং ডে টেস্ট নামকরণের পিছনে…?

অনেকের মনেই কৌতুহল, এই টেস্টকে কেন বক্সিং ডে টেস্ট বলা হয়? আদৌ কি আছে বক্সিং বা মুষ্টিযুদ্ধের সঙ্গে কোনও যোগ আছে? এই প্রতিবেদনে রইলো বক্সিং ডে টেস্টের ইতিহাস থেকে সংস্কৃতি। চলতি বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজের ফল এখন ১-১। বৃষ্টিবিঘ্নিত ব্রিসবেনে তৃতীয় টেস্ট ড্র হয়ে গিয়েছে। আগামীকাল ২৬ ডিসেম্বর থেকে মেলবোর্নে শুরু হবে বক্সিং ডে টেস্ট।

বক্সিং ডে কী?
প্রতি বছর বড়দিনের পরের দিন অর্থাত্ ২৬ ডিসেম্বর পালিত হয় বক্সিং ডে। যা সরকারি ছুটির দিন। ব্রিটেন থেকে উদ্ভূত হলেও বহু কমনওয়েলথ দেশে তা রমরমিয়ে পালন করা হয়। বিশেষ দিনে আধুনিক উদযাপনের সঙ্গে ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে যোগ করে। বড়দিনে পাওয়া উপহারের বাক্স এদিন খোলা হয়। সেই কারণেও বক্সিং-ডে। বহু দেশে এই দিনে ক্রিস্টমাসে কাজ করা অভাবী মানুষদের হাতে প্রয়োজনীয় জিনিসও দেওয়া হয়। অনেকে বিশ্বাস করেন এই দিনে দান-ধ্যানে ভরপুর হয় সুখ-সমৃদ্ধি। কারোর কাছে এই দিন কেনাকাটা করার জন্যও শুভ।

বক্সিং ডে এবং ক্রিকেট
বক্সিং ডে-তে টেস্ট ক্রিকেট খেলে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নিউ জিল্যান্ড। সবচেয়ে জনপ্রিয় অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহাসিক মেলবোর্নে খেলা টেস্ট। বক্সিং ডে টেস্টের সুদীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। ১৮৬৫ সালে ভিক্টোরিয়া এবং নিউ সাউথ ওয়েলসের মধ্যে একটি শেফিল্ড শিল্ড ম্যাচ হয়েছিল এই এমসিজি-তে। দেখতে গেলে সেখান থেকেই শুরু। ১৯৫০-৫১ অ্যাশেজ সিরিজের সময়ে মেলবোর্ন টেস্ট ২২ থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত খেলা হয়েছিল। চতুর্থ দিনের খেলাটি বক্সিং ডে তে হয়েছিল। তবে ১৯৫৩ থেকে ১৯৬৭ সালের মধ্যে মেলবোর্নে বক্সিং ডে-তে কোনও টেস্ট ম্যাচ খেলাই হয়নি। কারণ তখন ছ’টি টেস্ট হয়েছিল। ১৯৭৪-৭৫ অ্যাশেজ সিরিজে, সামগ্রিক সময়সূচিতে সব টেস্ট দিতে গিয়ে তৃতীয় টেস্ট মেলবোর্নে বক্সিং ডে তে শুরু হওয়ার কথা ছিল।

২০১৩ সালের বক্সিং ডে টেস্ট ইতিহাস লিখেছিল। খেলেছিল অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড। মেলবোর্ন সেবার ৯১ হাজার ১১২ জন দর্শক এসেছিলেন খেলা দেখতে। বক্সিং ডে টেস্টে একাধিক স্মরণীয় মুহূর্ত রয়েছে। ১৯৮৫ সালে অসি কিংবদন্তি স্টিভ ওয়াহ অভিষেক করেছিলেন বক্সিং ডে টেস্টে। ১৯৮৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেসার ম্যালকম মার্শাল ৩০০ টেস্ট উইকেট নিয়েছিলেন। ১৯৯৪ সালে স্পিন জাদুকর ওয়ার্ন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের রেকর্ড করেছিলেন। ২০০৬ সালে আবার ইংলিশদের বিপক্ষে ৭০০ টেস্ট উইকেট নিয়েছিলেন।

২৬ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়ায় গ্রীষ্মকালীন ছুটি এবং উষ্ণ আবহাওয়ার সময় হয়। এই দিনে দর্শকদের খেলা দেখার প্রবণতা বেশি থাকে। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) হাজার হাজার মানুষ টেস্ট ম্যাচ দেখতে আসে, যা এটিকে একটি বিশেষ ইভেন্টে পরিণত করে।

বক্সিং ডে টেস্টের জনপ্রিয়তা
বক্সিং ডে টেস্ট শুধু ক্রিকেট ভক্তদের জন্য নয়, বরং সাধারণ মানুষের কাছেও একটি বিনোদনের উৎস। ছুটির দিন হওয়ায় মানুষ পরিবার নিয়ে স্টেডিয়ামে আসে এবং টিভিতে খেলা উপভোগ করে। এটি ক্রীড়া ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সংমিশ্রণ।

 

 

এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

কে এম রাজিব
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পটে বেশি গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। রোববার ( ২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টায় নগরীর সাগরিকা মোড় সংলগ্ন কাজীর দীঘি এলাকায় চসিকের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে মেয়র এ কথা জানান। একই সঙ্গে নগরবাসীকে নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং ঘুমানোর সময় নিয়মিত মশারি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

 

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চসিকের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পট এলাকাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এসব এলাকায় মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বাড়ছে। এ কারণে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে চসিকের মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচের ট্রে, নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র ও অন্যান্য পরিত্যক্ত সামগ্রীও দ্রুত অপসারণ করতে হবে। তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন—এই অভ্যাস নগরবাসীকে গড়ে তুলতে হবে। নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, অন্যকেও সচেতন করুন। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়। তাই দিনের বেলায় সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঘুমানোর সময় সবসময় মশারি ব্যবহার করতে হবে।