খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

গাঙচিলের ১৯৯ তম সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত

খান আখতার হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৪ অপরাহ্ণ
গাঙচিলের ১৯৯ তম সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত

আজ খুলনা জেলা পরিষদ মিলনায়তনে গাঙচিল সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ আয়োজন করে খুলনা ১৯৯তম গাঙচিল সাহিত্য সম্মেলন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ২শতাধিক কবি সাহিত্যিক সসম্মানে অংশ গ্রহণ করেন। সম্মেলনটি দুই পর্বে বিভক্ত হয়। প্রথম পর্বে প্রফেসর ড. হানিফ মল্লিকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা ওয়াশার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং উদ্বোধক ছিলেন আমেরিকা প্রবাসী কবি সালেম সুলেরী।

দ্বিতীয় পর্ব ছিলো সমাপনী পর্ব। ২য় পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকার জনপ্রিয় কবি ইমরোজ সোহেল। প্রধান আলোচক ছিলেন প্রখ্যাত কবি বীর মুক্তিযোদ্ধা কবি আবু সুফিয়ান খান ও খুলনা সাহিত্যের একাল-সেকালের উপর বক্তব্য রাখেন সাহিত্য সমালোচক অধ্যাপক শেখ আজিজুল ইসলাম টিপু। এপর্বে সভাপতিত্ব করেন সোনালী ব্যাংকের এজিএম কবি মফিদুল ইসলাম।

দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্বে বক্তব্য রাখেন গাঙচিলের স্থায়ী সদস্য অধ্যাপক সবুরন নেসা, বাগেরহাট গাঙচিলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব সৈয়দা তৈফুন নাহার, গাঙচিল সাহাপুর শাখার সভাপতি দীনেশ চন্দ্র মন্ডল, গাঙচিল তেরোখাাদার সভাপতি শরিফ ইমরুল হক, আলমডাঙ্গা সভাপতি জামিরুল রহমান জামির, মংলা গাঙচিলের সভাপতি জেমস রতীন কর্মকার, দিঘলিয়া গাঙচিলের সভাপতি হুমায়ুন কোদ তালা গাঙচিলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুর ইসলাম মোল্লা, খান জাহান আলী থানা শাখার সভাপতি এসএম আব্দুর রহমান, বটিয়াঘাটা শাখার সহ-সভাপতি ভগবতী গোলদার, রূপসা গাঙচিলের সভাপতি শেখ মুনসুর রহমান, গাঙচিল ঢাকা মহানগর সভাপতি আনিসুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক কবি শাহী সবুর।

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।