খুঁজুন
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৩ আশ্বিন, ১৪৩৩

মাগুরার শ্রীপুরে শিক্ষকের চাকুরিচ্যুত ও গ্রেফতারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ

সোহেল রানা
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২২ অপরাহ্ণ
মাগুরার শ্রীপুরে শিক্ষকের চাকুরিচ্যুত ও গ্রেফতারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ

বিভিন্ন সময়ে ছাত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন এবং বিদ্যালয়ের নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার আমলসার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোহেল রানার চাকুরিচ্যুত,গ্রেফতার ও সঠিক বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ মিছিল ও ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

রবিবার(২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে আমলসার মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় এতে অংশগ্রহণ করেন অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাথীরা। ​অভিযুক্ত শিক্ষক সোহেল রানা শ্রীপুর উপজেলার আমলসার ইউনিয়নের কচুবাড়ীয়া চরপাড়া গ্রামের মোকছেদ মোল্লার ছেলে। প্রতিবাদ মিছিলে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষক সোহেল রানার চরিত্র ভালো নয় এবং অতীতেও তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর আগে এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠলেও পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে তা মিমাংসা করা হয়। শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে উক্ত শিক্ষকের চাকুরিচ্যুত,গ্রেফতার ও সঠিক বিচারের দাবি জানান এবং এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হওয়া পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষে না ফেরার ঘোষণা দিয়ে ক্লাস বর্জন করেন। ​এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রী মানিক চন্দ্র রায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং উক্ত শিক্ষককে আইনের আওতায় আনা হবে। তোমরা আন্দোলনের পথ ছেড়ে ক্লাসে ফিরে যাও।” ​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ২৬ সেপ্টেম্বর।
অভিযুক্ত শিক্ষক সোহেল রানার স্ত্রী রুপা বেগম স্বামী ও আমলসার গ্রামের নিলুফা ইয়াসমিন মিতুর (১৮) মধ্যকার অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে ওই যুবতীর বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন। নিলুফা আমলসার গ্রামের নূর মোহাম্মদের মেয়ে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ​স্ত্রী রুপা বেগম সাংবাদিকদের জানান, “গত তিন বছর ধরে আমার স্বামী নিলুফার সাথে পরকীয়ায় জড়িত। তারা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যেত এবং আমার স্বামী নিজের মুখেও তা স্বীকার করেছে। সে আমাকে ছেড়ে তাকে বিয়ে করতে চায়। আমাদের তিন বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। আমি আমার সংসার বাঁচাতে বাধ্য হয়ে নিলুফার বাড়িতে এসেছি।” ​রুপা আরও অভিযোগ করেন, তিনি নিলুফার বাড়িতে অবস্থানের কথা সোহেল রানাকে জানালে সোহেল তাকে মোবাইল ফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মেরে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। ​শিক্ষকের এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন আমলসার ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ। তারা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।