কালিয়াকৈর বাজারে মৎস্য দপ্তরের সাঁড়াশি অভিযান,১২ কেজি বিষাক্ত জেলি পুশ চিংড়ি জব্দ ও আগুনে বিনষ্ট
গাজীপুরের কালিয়াকৈর বাজারে বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) সকালে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ ১২ কেজি জেলি পুশকৃত চিংড় জব্দ করেছে উপজেলা মৎস্য দপ্তর। পরে তা প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। এ ঘটনায় বাজারে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
এই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেন কালিয়াকৈরের চৌকস, সৎ ও জনবান্ধব উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ নাজমুল হুদা। এসময় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য দপ্তরের ফিল্ড এসিস্টেন মোসলেহ উদ্দিনও অফিস সহকারী আশানন্দ।
অভিযানের পর জব্দকৃত চিংড়ি বিনষ্ট করার সময় উপস্থিত ছিলেন কালিয়াকৈর উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুন নাহার শিলা।
সরেজমিনে দেখা যায়, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬এর ব্যানারের সামনে উপজেলা মৎস্য অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জব্দকৃত বড় বড় গলদা চিংড়ি পরীক্ষা করছেন। পরে লাল বালতি থেকে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে সেই বিষাক্ত চিংড়ি বিনষ্ট করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ নাজমুল হুদা বলেন,কেমিক্যাল মিশ্রিত জেলি পুশ চিংড়ি মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এটি কিডনি, লিভার ও ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি সৃষ্টি করতে পারে। অসাধু ব্যবসায়ীরা ওজন বাড়ানোর জন্য সিরিঞ্জ দিয়ে চিংড়ির মাথায় ও শরীরে জেলি ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল পুশ করে। সাধারণ ক্রেতারা দেখে বুঝতে পারে না। বাজার থেকে মাছ ক্রয়ের সময় অবশ্যই ভালোভাবে দেখে নিতে হবে। চিংড়ির মাথা অস্বাভাবিক ফোলা, নরম ও পিচ্ছিল দেখলে তা কিনবেন না। জনস্বার্থে এ ধরণের অভিযান নিয়মিত চলমান থাকবে। কোন অসাধু ব্যবসায়ীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামসুন নাহার শিলাবলেন,ভেজাল বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনস্বাস্থ্য নিয়ে কোন ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, কালিয়াকৈর বাজারে ১২ কেজি জেলি পুশকৃত চিংড়ি জব্দ ও বিনষ্টের ঘটনাটি আমি অবগত হয়েছি। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। আমি উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ নাজমুল হুদা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুন নাহার শিলা কে ধন্যবাদ জানাই, তারা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছেন। কালিয়াকৈর উপজেলায় কোন ভেজাল ব্যবসায়ীর ঠাঁই হবে না। জনস্বার্থে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য দপ্তর ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের যৌথ অভিযান নিয়মিত চলমান থাকবে। বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা হবে।তিনি আরও বলেন,সাধারণ ক্রেতাদেরও সচেতন হতে হবে। সন্দেহজনক কোন মাছ বা চিংড়ি দেখলে সাথে সাথে উপজেলা প্রশাসন বা মৎস্য দপ্তরে জানান।
এলাকাবাসী এই অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছে।
কালিয়াকৈর বাজারের ক্রেতা আব্দুল করিম (৫৫) বলেন, আমরা টাকা দিয়ে বিষ কিনে খাচ্ছিলাম। ১ হাজার টাকা কেজি গলদা কিনে বাড়ি নিয়ে দেখি ভিতরে জেলি। এই অভিযানের জন্য মৎস্য অফিসার ও ইউএনও স্যারকে ধন্যবাদ। এদের জেলে দেওয়া উচিত।
রহিমা বেগম (৪০), গৃহিণী, কলেজ রোড* বলেন,এই জেলি চিংড়ি খেয়ে আমাদের বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। পেট ব্যথা, ডায়রিয়া লেগেই আছে। প্রতিদিন যেন বাজার মনিটরিং করা হয়। ইউএনও স্যারের এই কঠোর বক্তব্যে আমরা খুশি।
জাহাঙ্গীর আলম, ব্যবসায়ী, কালিয়াকৈর বাজার বলেন,অসাধু কয়েকজনের জন্য আমাদের সব ব্যবসায়ীর বদনাম হয়। আমরা চাই এই অভিযান প্রতিদিন চলুক।
উপজেলা প্রশাসন, কালিয়াকৈর থেকে সকলকে অনুরোধ করা হয়েছে – চিংড়ি বা কোন মাছে জেলি পুশ করা সন্দেহ হলে দ্রুত উপজেলা মৎস্য অফিস বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে খবর দিন। আপনার সচেতনতাই পারে আপনার পরিবারকে নিরাপদ রাখতে।

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]