খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

কালিয়াকৈর বাজারে মৎস্য দপ্তরের সাঁড়াশি অভিযান,১২ কেজি বিষাক্ত জেলি পুশ চিংড়ি জব্দ ও আগুনে বিনষ্ট

জাহাঙ্গীর আলম শরিফ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৭ অপরাহ্ণ
কালিয়াকৈর বাজারে মৎস্য দপ্তরের সাঁড়াশি অভিযান,১২ কেজি বিষাক্ত জেলি পুশ চিংড়ি জব্দ ও আগুনে বিনষ্ট

গাজীপুরের কালিয়াকৈর বাজারে বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) সকালে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ ১২ কেজি জেলি পুশকৃত চিংড় জব্দ করেছে উপজেলা মৎস্য দপ্তর। পরে তা প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। এ ঘটনায় বাজারে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

এই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেন কালিয়াকৈরের চৌকস, সৎ ও জনবান্ধব উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ নাজমুল হুদা। এসময় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য দপ্তরের ফিল্ড এসিস্টেন মোসলেহ উদ্দিনও অফিস সহকারী আশানন্দ।
অভিযানের পর জব্দকৃত চিংড়ি বিনষ্ট করার সময় উপস্থিত ছিলেন কালিয়াকৈর উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুন নাহার শিলা।
সরেজমিনে দেখা যায়, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬এর ব্যানারের সামনে উপজেলা মৎস্য অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জব্দকৃত বড় বড় গলদা চিংড়ি পরীক্ষা করছেন। পরে লাল বালতি থেকে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে সেই বিষাক্ত চিংড়ি বিনষ্ট করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ নাজমুল হুদা বলেন,কেমিক্যাল মিশ্রিত জেলি পুশ চিংড়ি মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এটি কিডনি, লিভার ও ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি সৃষ্টি করতে পারে। অসাধু ব্যবসায়ীরা ওজন বাড়ানোর জন্য সিরিঞ্জ দিয়ে চিংড়ির মাথায় ও শরীরে জেলি ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল পুশ করে। সাধারণ ক্রেতারা দেখে বুঝতে পারে না। বাজার থেকে মাছ ক্রয়ের সময় অবশ্যই ভালোভাবে দেখে নিতে হবে। চিংড়ির মাথা অস্বাভাবিক ফোলা, নরম ও পিচ্ছিল দেখলে তা কিনবেন না। জনস্বার্থে এ ধরণের অভিযান নিয়মিত চলমান থাকবে। কোন অসাধু ব্যবসায়ীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামসুন নাহার শিলাবলেন,ভেজাল বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনস্বাস্থ্য নিয়ে কোন ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, কালিয়াকৈর বাজারে ১২ কেজি জেলি পুশকৃত চিংড়ি জব্দ ও বিনষ্টের ঘটনাটি আমি অবগত হয়েছি। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। আমি উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ নাজমুল হুদা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুন নাহার শিলা কে ধন্যবাদ জানাই, তারা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছেন। কালিয়াকৈর উপজেলায় কোন ভেজাল ব্যবসায়ীর ঠাঁই হবে না। জনস্বার্থে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য দপ্তর ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের যৌথ অভিযান নিয়মিত চলমান থাকবে। বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা হবে।তিনি আরও বলেন,সাধারণ ক্রেতাদেরও সচেতন হতে হবে। সন্দেহজনক কোন মাছ বা চিংড়ি দেখলে সাথে সাথে উপজেলা প্রশাসন বা মৎস্য দপ্তরে জানান।
এলাকাবাসী এই অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছে।
কালিয়াকৈর বাজারের ক্রেতা আব্দুল করিম (৫৫) বলেন, আমরা টাকা দিয়ে বিষ কিনে খাচ্ছিলাম। ১ হাজার টাকা কেজি গলদা কিনে বাড়ি নিয়ে দেখি ভিতরে জেলি। এই অভিযানের জন্য মৎস্য অফিসার ও ইউএনও স্যারকে ধন্যবাদ। এদের জেলে দেওয়া উচিত।
রহিমা বেগম (৪০), গৃহিণী, কলেজ রোড* বলেন,এই জেলি চিংড়ি খেয়ে আমাদের বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। পেট ব্যথা, ডায়রিয়া লেগেই আছে। প্রতিদিন যেন বাজার মনিটরিং করা হয়। ইউএনও স্যারের এই কঠোর বক্তব্যে আমরা খুশি।
জাহাঙ্গীর আলম, ব্যবসায়ী, কালিয়াকৈর বাজার বলেন,অসাধু কয়েকজনের জন্য আমাদের সব ব্যবসায়ীর বদনাম হয়। আমরা চাই এই অভিযান প্রতিদিন চলুক।
উপজেলা প্রশাসন, কালিয়াকৈর থেকে সকলকে অনুরোধ করা হয়েছে – চিংড়ি বা কোন মাছে জেলি পুশ করা সন্দেহ হলে দ্রুত উপজেলা মৎস্য অফিস বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে খবর দিন। আপনার সচেতনতাই পারে আপনার পরিবারকে নিরাপদ রাখতে।

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস