খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

সাভার-আশুলিয়ায় ডিবির পৃথক অভিযানে দুই মাদক কারবারি ও ডাকাতি মামলার আসামি গ্রেপ্তার

নাজমুল
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
সাভার-আশুলিয়ায় ডিবির পৃথক অভিযানে দুই মাদক কারবারি ও ডাকাতি মামলার আসামি গ্রেপ্তার

ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ১৩০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি এবং ডাকাতির প্রস্তুতির মামলায় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে চারটি মাদক মামলা রয়েছে। অপরজনের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে চারটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম।

ডিবি পুলিশ জানায়, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় ও ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই মো. শাহাদাৎ হোসেনসহ একটি দল বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাভারের সিন্ধুরিয়া এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মো. গিয়াস উদ্দিন (৩২) ও মো. নজরুল ইসলাম (৩৫) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের কাছ থেকে ১৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক অবৈধ বাজারমূল্য ৩৯ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিবি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে চারটি মাদক মামলা রয়েছে। তাঁর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার কালতা দিঘিরপাড় এলাকায়। তিনি সাভারের বক্তারপুর বেদেপাড়ায় বসবাস করতেন। অপর গ্রেপ্তার নজরুল ইসলামের বাড়ি ঢাকার ধামরাই থানার সোমভাগ ইউনিয়নের ফুকুটিয়া গ্রামে। তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত ১২টা ৫ মিনিটে আশুলিয়া থানার পবনারটেক এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে মো. এরশাদ হোসেন (৪৫) নামের আরেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে ডিবি উত্তর। ওসি মোহাম্মদ সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই মো. আব্দুল মুত্তালিবসহ ডিবির একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

ডিবির ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এরশাদ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে চুরির দুটি, ডাকাতির একটি এবং অন্যান্য অপরাধে একটি মামলাসহ মোট চারটি মামলা রয়েছে। তাঁকে ডাকাতির প্রস্তুতির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, “মাদক কারবারি, চোর, ডাকাতসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে ডিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধ করে কেউ যেন পার পেয়ে যেতে না পারে, সে লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস