খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

হাসপাতালের বেডে শিশু ধর্ষণ মামলার রায় ১৯ বছর পর!

এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৯ অপরাহ্ণ
হাসপাতালের বেডে শিশু ধর্ষণ  মামলার রায়  ১৯ বছর পর!

২২ বছর বয়সে শিশু ধর্ষণে অভিযুক্ত হন বালাগঞ্জের সুমেল খা। সেই বয়সে তিনি ১০বছর বয়সী শিশু কন্যাকে বালাগঞ্জ সদর হাসপাতালে মহিলা ওয়ার্ডের ১৩ নং কক্ষে সুকৌশলে ধর্ষণ করেন। এই ঘটনায় মামলা দায়ের করার ১৯ বছর পর আজ আলোর মুখ দেখে বালাগঞ্জ হাসপাতালের ভেতরে ১০ বছর বয়সী শিশু ধর্ষণ মামলা।

সিলেটের বালাগঞ্জে হাসপাতালে ভবনে ১০ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের মামলায় জেলা ও দায়রা জজ আদালত ও জেলা শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক রুবাইয়া ইয়াসমিন আজ ১৩ অক্টোবর রায় প্রদান করেছেন সিলেটের আদালতে।

রায়ে শিশু ধর্ষণ মামলায় সুমেল খা নামে এক আসামীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। যার পুরো টাকা ভুক্তভোগী শিশু ও তার পরিবার পাবে।

অনাদায় আরো পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আসামি স্বেচ্ছায় অর্থদণ্ড আদায় না করলে জেলা প্রশাসক আসামির স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে জরিমানা টাকা আদায় করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত সুমেল খা বালাগঞ্জ উপজেলার গুপখানু গ্রামের তৈমুজ খা এর ছেলে।

ঘটনার ১৯ বছর পরে হলেও রায় পেয়ে ধর্ষণ মামলা আলোর মুখ দেখেছে বলে জানান বাদী পরিবার।

মামলার তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, ২০০৭ সালের ৫ নভেম্বর রাত ১০ টার দিকে বালাগঞ্জ সদর হাসপাতালে দ্বিতীয় তলার ১৩ নম্বর মহিলা ওয়ার্ডে ১০ বছর বয়সী শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়। ঘটনায় ভিকটিম এর চাচা দুলাল মিয়া বাদি হয়ে বালাগঞ্জ থানায় পরদিন ৬ নভেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালত সুমেল খা কে দোষী সাইব্যস্ত করায়। ঘটনার ১৯ বছর পর আজ ১৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে আদালত ধর্ষণ ঘটনায় অভিযুক্ত সুমেল খা কে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা। অনাদায় আরও ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদানের রায় দেন।

স্বেচ্ছায় জরিমানারঅর্থ প্রদান না করলে সিলেট জেলা প্রশাসককে আসামীর সম্পত্তি বিক্রি করে ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণের টাকা আদায়ের নির্দেশ দেয়া হয়।

এ মামলায় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের মামলা পরিচালনা করেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এড, মোশতাক আহমেদ। আসামি পক্ষে ছিলেন এডভোকেট আয়শা বেগম শেলী।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেটের কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো: আমিনুল ইসলাম জানান, রায়ের সময় আসামী সুমেল খা আদালতে হাজির ছিলেন। রায়ের পর তাকে বাদাঘাট জেলখানায় প্রেরণ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বালাগঞ্জ থানার জি আর ১১৫/২০০৭ এর মামলা রয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯(১) ধারা। যে মামলায় বিজ্ঞ আদালত আসামি সুমেল খা পিতা তৈমুজ খা সাং গুপখানু থানা বালাগঞ্জ এর বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায় আরও ৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ডের রায় প্রদান করেন ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার।

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস