খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

মনিরামপুরে বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

মোঃ শফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১২ অপরাহ্ণ
মনিরামপুরে বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, জমি দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারী-পুরুষসহ একই পরিবারের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। আহতদের মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ঢাকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা কায়ছেদ আলী মোল্লা।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ১৯৮৫ সালে বাবার কাছ থেকে মনিরামপুরের ঢাকুরিয়া ও ভবানীপুর মৌজায় মোট ১৩ শতক জমি ক্রয় করেন তিনি। ওই জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ৪ অক্টোবর সকালে তাঁর ভাই ইদ্রিস আলীর পক্ষ নিয়ে সাবেক ছাত্রদল নেতা ও বর্তমানে ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হুমায়ুন কবির মিন্টুর নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কায়ছেদ আলীর দাবি, হামলাকারীরা হাতুড়ি, রামদা, রডসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর এবং জমি দখলের চেষ্টা করেন। বাধা দিলে তাঁর স্ত্রী, দুই ছেলে, বোন, ভাগ্নি, ভাগ্নিজামাইসহ পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পরদিন ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে এসে পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশ ও গুম করার হুমকি দেন। এতে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে মনিরামপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা নেয়নি বলে দাবি করেন কায়ছেদ আলী। এ কারণে তাঁরা আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সজীব হোসেন, আল আমিন, রেহেনা, ফরিদা, আমেনা, রুপা, হেনা ও রাসেলসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং নিজেদের বসতবাড়ি ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক ছাত্রদলের সভাপতি ও বর্তমানে ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হুমায়ুন কবির মিন্টু অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন, পারিবারিক বিরোধীদের জেরে শহর থেকে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস