খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে প্রস্তুত সিসিক

এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে প্রস্তুত সিসিক

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, ধর্মীয় উৎসব উদযাপনে সিলেট সিটি কর্পোরেশন সব সম্প্রদায়ের পাশে রয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে নগরজুড়ে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোর পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনাসহ প্রয়োজনীয় সব বিষয়ে সিসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, মহালক্ষ্মী মন্দিরে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এ পূজাকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হবে। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মন্দির ও আশপাশের এলাকার পরিচ্ছন্নতা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে দক্ষিণ সুরমার মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠে কুমারী পূজার প্রস্তুতি পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রশাসক বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশন সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠানকে সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখে।

তিনি বলেন, সিলেট নগরীতে ৮৫টি সর্বজনীন পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব মণ্ডপের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগে আয়োজিত পূজাগুলোতেও যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়, সে বিষয়েও সিটি কর্পোরেশন নজর রাখছে।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী কোনো পূজামণ্ডপে বা পূজা আয়োজনের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দকে দ্রুত সিটি কর্পোরেশনকে জানানোর আহ্বান জানান। ।

প্রশাসক বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে নগদ অর্থ সহায়তার পাশাপাশি রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজও করা হচ্ছে। মন্দিরে মন্দিরে গিয়ে পূজার প্রস্তুতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন, মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি শিবব্রত ভৌমিক চন্দন, সাধারণ সম্পাদক জনার্দ্ধন চক্রবর্তী মিন্টু, সহসভাপতি নারায়ণ চক্রবর্তী, চন্দন দাস ও মিন্টু দাস, কোষাধ্যক্ষ সঞ্জিত কর, উপদেষ্টা অধ্যাপক প্রতাপ চৌধুরী, দক্ষিণ সুরমা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নন্দন পাল, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মনোজ তালুকদার, লাভলু দেব, নান্টু দাস, অহিভূষণ দেব, ৩০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম, ৩০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গৌছ উদ্দিন পাপ্পু, শুভংকর দাস, নিরু দেব, সিসিকের সহকারী প্রকৌশলী সুমন চন্দ্র দেব প্রমুখ।

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস