খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

মালবাহী ট্রাকে যাত্রী পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে’: নাওজোর হাইওয়ে ওসি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩১ অপরাহ্ণ
মালবাহী ট্রাকে যাত্রী পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে’: নাওজোর হাইওয়ে ওসি

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট গাজীপুরের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় রাতের অন্ধকারে মালবাহী ট্রাকে যাত্রী বহনের এক বিপজ্জনক দৃশ্য দেখা গেছে। দূরপাল্লার বাসের টিকিটের তীব্র সংকট এবং অতিরিক্ত ভাড়ার সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণীর অসাধু ট্রাক চালক মালবাহী গাড়িতে করে যাত্রী পরিবহন করছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে ট্রাকের ওপর সবুজ রঙের ত্রিপল খাটিয়ে ভেতরে গাদাগাদি করে মানুষ তোলা হচ্ছে, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। মালবাহী ট্রাকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী পরিবহনের বিষয়ে জানতে চাইলে নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর আলী খান জানান, মহাসড়কে কোনভাবেই মালবাহী ট্রাক কিংবা খোলা পিক আপে যাত্রী বহন করতে দেয়া হবে না। এটি চরম ঝুকি পূর্ণ এবং আইনগতভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে দিতে কিছু চালক ত্রিপল খাটিয়ে যাত্রী তোলার চেষ্টা করছে। আমাদের টিম বিভিন্ন পয়েন্টের শুকরিয়া রয়েছে। এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা ঠেকাতে মহাসড়কে চন্দ্রা ও বগরা সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোরে হাইওয়ে পুলিশ কঠোর নজরদারি ও চেকপোস্ট জোরদার করা হয়েছে। আইন অমান্যকারীর ট্রাক চালকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা ও জরিমানা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় দেখা যায়, উত্তরবঙ্গগামী শত শত যাত্রী বাসের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তায় অপেক্ষা করছেন। কাউন্টারগুলোতে টিকিট নেই, আর যেসব লোকাল বাস পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ-ত্রিগুণ ভাড়া দাবি করা হচ্ছে। চন্দ্রা থেকে দিনাজপুর বা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়াগামী বাসের ভাড়া সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে চলে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষ
বাস না পেয়ে বাধ্য হয়ে অনেক যাত্রী মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট ও মাঝারি ট্রাকে উঠছেন। দিনাজপুরগামী এক যাত্রী জানান, “বাসের টিকিট পাচ্ছি না, আর পেলেও ভাড়া চাচ্ছে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। ট্রাকে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় যাওয়া যাচ্ছে। কষ্ট হবে এবং ঝুঁকি আছে জেনেও বাড়ি ফিরতে ট্রাকেই উঠতে হলো।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও হাইওয়ে পুলিশের কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চালকরা অভিনব কায়দায় যাত্রী পরিবহন করছে। ট্রাকে যাত্রী তোলার পর ওপর থেকে সবুজ বা নীল রঙের মোটা ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে, যাতে দূর থেকে দেখলে মনে হয় কোনো মালপত্র বা পণ্য পরিবহন করা হচ্ছে। মহাসড়কের চেকপোস্টগুলোর চোখ ফাঁকি দিতেই চালকরা এই কৌশল ব্যবহার করছে বলে স্থানীয়রা জানান।
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা থেকে দিনাজপুর ও তেঁতুলিয়ার দূরত্ব প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার। এই দীর্ঘ পথ রাতের অন্ধকারে দ্রুতগতির খোলা ট্রাক বা ত্রিপল ঢাকা ট্রাকে গাদাগাদি করে পাড়ি দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মহাসড়কের ঝাঁকুনি বা চালক হঠাৎ ব্রেক কষলে ভেতরে থাকা যাত্রীরা মারাত্মকভাবে আহত হতে পারেন। এর আগেও এই মহাসড়কে রড ও যাত্রীবোঝাই ট্রাক উল্টে বহু মানুষের প্রাণহানির নজির রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, কেবল জরিমানা নয়, মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের টহল ও কঠোর অবস্থান আরও বৃদ্ধি করলে চালকদের এই বেপরোয়া ও অবৈধ প্রবণতা বন্ধ করা সম্ভব হবে।

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস