মালবাহী ট্রাকে যাত্রী পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে’: নাওজোর হাইওয়ে ওসি
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট গাজীপুরের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় রাতের অন্ধকারে মালবাহী ট্রাকে যাত্রী বহনের এক বিপজ্জনক দৃশ্য দেখা গেছে। দূরপাল্লার বাসের টিকিটের তীব্র সংকট এবং অতিরিক্ত ভাড়ার সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণীর অসাধু ট্রাক চালক মালবাহী গাড়িতে করে যাত্রী পরিবহন করছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে ট্রাকের ওপর সবুজ রঙের ত্রিপল খাটিয়ে ভেতরে গাদাগাদি করে মানুষ তোলা হচ্ছে, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। মালবাহী ট্রাকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী পরিবহনের বিষয়ে জানতে চাইলে নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর আলী খান জানান, মহাসড়কে কোনভাবেই মালবাহী ট্রাক কিংবা খোলা পিক আপে যাত্রী বহন করতে দেয়া হবে না। এটি চরম ঝুকি পূর্ণ এবং আইনগতভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে দিতে কিছু চালক ত্রিপল খাটিয়ে যাত্রী তোলার চেষ্টা করছে। আমাদের টিম বিভিন্ন পয়েন্টের শুকরিয়া রয়েছে। এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা ঠেকাতে মহাসড়কে চন্দ্রা ও বগরা সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোরে হাইওয়ে পুলিশ কঠোর নজরদারি ও চেকপোস্ট জোরদার করা হয়েছে। আইন অমান্যকারীর ট্রাক চালকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা ও জরিমানা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় দেখা যায়, উত্তরবঙ্গগামী শত শত যাত্রী বাসের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তায় অপেক্ষা করছেন। কাউন্টারগুলোতে টিকিট নেই, আর যেসব লোকাল বাস পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ-ত্রিগুণ ভাড়া দাবি করা হচ্ছে। চন্দ্রা থেকে দিনাজপুর বা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়াগামী বাসের ভাড়া সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে চলে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষ
বাস না পেয়ে বাধ্য হয়ে অনেক যাত্রী মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট ও মাঝারি ট্রাকে উঠছেন। দিনাজপুরগামী এক যাত্রী জানান, “বাসের টিকিট পাচ্ছি না, আর পেলেও ভাড়া চাচ্ছে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। ট্রাকে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় যাওয়া যাচ্ছে। কষ্ট হবে এবং ঝুঁকি আছে জেনেও বাড়ি ফিরতে ট্রাকেই উঠতে হলো।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও হাইওয়ে পুলিশের কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চালকরা অভিনব কায়দায় যাত্রী পরিবহন করছে। ট্রাকে যাত্রী তোলার পর ওপর থেকে সবুজ বা নীল রঙের মোটা ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে, যাতে দূর থেকে দেখলে মনে হয় কোনো মালপত্র বা পণ্য পরিবহন করা হচ্ছে। মহাসড়কের চেকপোস্টগুলোর চোখ ফাঁকি দিতেই চালকরা এই কৌশল ব্যবহার করছে বলে স্থানীয়রা জানান।
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা থেকে দিনাজপুর ও তেঁতুলিয়ার দূরত্ব প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার। এই দীর্ঘ পথ রাতের অন্ধকারে দ্রুতগতির খোলা ট্রাক বা ত্রিপল ঢাকা ট্রাকে গাদাগাদি করে পাড়ি দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মহাসড়কের ঝাঁকুনি বা চালক হঠাৎ ব্রেক কষলে ভেতরে থাকা যাত্রীরা মারাত্মকভাবে আহত হতে পারেন। এর আগেও এই মহাসড়কে রড ও যাত্রীবোঝাই ট্রাক উল্টে বহু মানুষের প্রাণহানির নজির রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, কেবল জরিমানা নয়, মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের টহল ও কঠোর অবস্থান আরও বৃদ্ধি করলে চালকদের এই বেপরোয়া ও অবৈধ প্রবণতা বন্ধ করা সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]