খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে শ্রম পরিদর্শকদের পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহি বাড়াতে হবে: শ্রমমন্ত্রী

এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে শ্রম পরিদর্শকদের পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহি বাড়াতে হবে: শ্রমমন্ত্রী

শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে শ্রম পরিদর্শকদের পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে হবে। কলকারখানায় কাঠামোগত, বৈদ্যুতিক ও অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ও হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর পরিদর্শন জোরদার করতে হবে।

আজ (শনিবার) সিলেটের রোজ ভিউ হোটেলে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) শ্রম পরিদর্শকদের জন্য লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং কাঠামোগত, বৈদ্যুতিক ও অগ্নিনিরাপত্তাবিষয়ক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, অনেক কারখানায় অগ্নিনির্গমন পথের অভাব, বৈদ্যুতিক ত্রুটি এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ব্যবহারে প্রশিক্ষণের ঘাটতি রয়েছে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কারখানার শ্রমিকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথভাবে কার্যকর রাখতে হবে। পরিদর্শনের সময় কোনো কারখানায় লাইসেন্সের ঘাটতি বা নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনের বিষয় নজরে এলে তা নথিভুক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। দুর্ঘটনায় একজন দক্ষ শ্রমিকের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, দেশের অর্থনীতি ও উৎপাদনশীলতার জন্যও বড় ক্ষতি।

তিনি আরও বলেন, পরিদর্শকদের দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের বাধা বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য হবে না। কোনো কারখানা পরিদর্শনে বাধা দেওয়া হলে বা দায়িত্ব পালনে অসহযোগিতা করা হলে তা মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। দায়িত্ব পালনে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দেওয়া কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করা হবে এবং পরিদর্শন কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দায়িত্বহীনতা বরদাশত করা হবে না।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার। শ্রমিকের মর্যাদা রক্ষা, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। আইএলও কনভেনশন ১৫৫, ১৮৭ ও ১৯০ বাস্তবায়নের উদ্যোগ জোরদার করার পাশাপাশি সময়োপযোগী শ্রম পরিদর্শন নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নেও গুরুত্ব দিতে হবে।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মো. ফরহাদ সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. শামসুল ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বাংলাদেশের টেকনিক্যাল অফিসার ওলে জাস্টেনসেন ও সিলেট প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস উন নূর। এ সময় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং ডিআইএফইর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস