খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

পরিচ্ছন্ন,সবুজ ও নিরাপদ রাজশাহী গড়তে উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে:ভূমিমন্ত্রী মিনু

মোস্তাফিজুর রহমান রানা
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৫ অপরাহ্ণ
পরিচ্ছন্ন,সবুজ ও নিরাপদ রাজশাহী গড়তে উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে:ভূমিমন্ত্রী মিনু

রাজশাহীকে দেশের সবচেয়ে সুন্দর, বসবাসযোগ্য ও নিরাপদ মহানগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু এমপি।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর সিটি হাট চত্বরে রাসিকের তিনটি উন্নয়ন প্রকল্পের পাঁচটি পুনঃস্থাপিত ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচনকালে তিনি এ কথা বলেন।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, রাসিক ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে নগরীর ব্যাপক উন্নয়ন করা হবে। পানির লাইন বসাতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সকল রাস্তা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হবে। বন্ধ থাকা সকল উন্নয়ন কাজ পুনরায় চালু করা হবে। এর মধ্যে সোনাদীঘি মসজিদ সংস্কার ও বাঁধ উন্নয়ন অন্যতম।

তিনি বলেন, শহীদ জিয়া শিশুপার্ক সংলগ্ন সড়ক পুনরুদ্বোধন করা হয়েছে। জামিরা থেকে কাশিয়াডাঙ্গা পর্যন্ত ১৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিন লেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজশাহী বাইপাস’ নির্মাণ করা হবে। এতে ডিভাইডার, ড্রেন,ফুটপাত ও বৃক্ষরোপণ থাকবে। এছাড়া বিমানবন্দর থেকে কাশিয়াডাঙ্গা পর্যন্ত আরও ১৬০০ কোটি টাকার বিশ্বমানের সড়ক নির্মাণ করা হবে। মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী পদ্মা পাড়ে ‘রিভার ড্রাইভ’ এবং বারনই নদীর পাশ দিয়ে নতুন সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন,আমাদের মূল লক্ষ্য সবার জন্য একটি শান্তিপূর্ণ, পরিচ্ছন্ন এবং সবুজ রাজশাহী গড়ে তোলা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, বিগত শাসনামলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও বিএনপির নেতৃবৃন্দের নামফলক সরানো হয়েছিল। প্রশাসনকে স্ব-উদ্যোগে সেগুলো খুঁজে বের করে পুনঃস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।

রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা,মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন-অর রশিদ, রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃরেজাউল করিম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের সহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। ফলক উন্মোচন শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ফায়ার ব্রিগেড মোড় থেকে উত্তর নওদাপাড়া পর্যন্ত সড়ক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তারেক রহমান এবং গোরহাঙ্গা রেলগেট মোড়ে নর্দমা নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। ২০০৪ সালে মোড় প্রশস্তকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন মেয়র মিজানুর রহমান মিনু। বিগত সরকারের আমলে ফলকগুলো মুছে ফেলা হয়েছিল।

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস