কন্যাশিশুর সুরক্ষা ও শিক্ষা ছাড়া উন্নত জাতি সম্ভব নয়: রাজশাহীর জেলা প্রশাসক
কন্যাশিশুদের সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও শিক্ষা নিশ্চিত না করে উন্নত জাতি গঠন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল-শিশুবিয়ে আর নয়,কন্যা করবে বিশ্বজয়, জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
জেলা প্রশাসক বলেন,একটি দেশ কতটা উন্নত,তার প্রধান মাপকাঠি হলো সে দেশের নারী ও কন্যাশিশুরা কতটা নিরাপদে চলাচল করতে পারে। কন্যাশিশুরা সমাজের বোঝা নয়, তারা দেশের অমূল্য সম্পদ। এ সময় তিনি নেপোলিয়নের উক্তি উদ্ধৃত করে বলেন- আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেব।
নারী শিক্ষার অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে। মেডিকেল কলেজে ভর্তিতে প্রায় ৭৫ শতাংশ আসন মেয়েরা দখল করছে। প্রশাসনেও নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ২৫টি জেলায় নারী জেলা প্রশাসক দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি আরও বলেন, নারী জাগরণে বেগম রোকেয়ার অবদান অনস্বীকার্য। পাশাপাশি দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা চালু করে নারী শিক্ষায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
বাল্যবিবাহ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, ভুয়া কাজী দিয়ে বা রেজিস্ট্রেশন ছাড়া গোপনে বাল্যবিবাহ দেওয়ার চেষ্টা হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো কন্যাশিশুর লেখাপড়া যেন অর্থের অভাবে বন্ধ না হয়, সে জন্য সরকার তার পাশে থাকবে। বইসহ পড়াশোনার সব খরচ রাষ্ট্র বহন করবে।
তিনি রাজশাহীকে বাল্যবিবাহমুক্ত জেলা হিসেবে গড়তে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাঃসবুর আলীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন, রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন, রাজশাহী ইমাম সমিতির সভাপতি ডঃশহিদুল ইসলাম মোল্লা। স্বাগত বক্তব্য দেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ইসরাত জাহান।
এর আগে সকালে বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে দিবসের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে নগরীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
অনুষ্ঠান শেষে জেলার ১৩০টি স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির মাঝে ২৩ লাখ ৫৩ হাজার টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]