খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

কন্যাশিশুর সুরক্ষা ও শিক্ষা ছাড়া উন্নত জাতি সম্ভব নয়: রাজশাহীর জেলা প্রশাসক

মোস্তাফিজুর রহমান রানা
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
কন্যাশিশুর সুরক্ষা ও শিক্ষা ছাড়া উন্নত জাতি সম্ভব নয়: রাজশাহীর জেলা প্রশাসক

কন্যাশিশুদের সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও শিক্ষা নিশ্চিত না করে উন্নত জাতি গঠন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল-শিশুবিয়ে আর নয়,কন্যা করবে বিশ্বজয়, জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

জেলা প্রশাসক বলেন,একটি দেশ কতটা উন্নত,তার প্রধান মাপকাঠি হলো সে দেশের নারী ও কন্যাশিশুরা কতটা নিরাপদে চলাচল করতে পারে। কন্যাশিশুরা সমাজের বোঝা নয়, তারা দেশের অমূল্য সম্পদ। এ সময় তিনি নেপোলিয়নের উক্তি উদ্ধৃত করে বলেন- আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেব।

নারী শিক্ষার অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে। মেডিকেল কলেজে ভর্তিতে প্রায় ৭৫ শতাংশ আসন মেয়েরা দখল করছে। প্রশাসনেও নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ২৫টি জেলায় নারী জেলা প্রশাসক দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি আরও বলেন, নারী জাগরণে বেগম রোকেয়ার অবদান অনস্বীকার্য। পাশাপাশি দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা চালু করে নারী শিক্ষায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

বাল্যবিবাহ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, ভুয়া কাজী দিয়ে বা রেজিস্ট্রেশন ছাড়া গোপনে বাল্যবিবাহ দেওয়ার চেষ্টা হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো কন্যাশিশুর লেখাপড়া যেন অর্থের অভাবে বন্ধ না হয়, সে জন্য সরকার তার পাশে থাকবে। বইসহ পড়াশোনার সব খরচ রাষ্ট্র বহন করবে।

তিনি রাজশাহীকে বাল্যবিবাহমুক্ত জেলা হিসেবে গড়তে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাঃসবুর আলীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন, রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন, রাজশাহী ইমাম সমিতির সভাপতি ডঃশহিদুল ইসলাম মোল্লা। স্বাগত বক্তব্য দেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ইসরাত জাহান।

এর আগে সকালে বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে দিবসের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে নগরীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

অনুষ্ঠান শেষে জেলার ১৩০টি স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির মাঝে ২৩ লাখ ৫৩ হাজার টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস