খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

ডিমলায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস দিবস পালিত, গুরুত্ব পেল আগাম প্রস্তুতি

(নীলফামারী) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪৮ অপরাহ্ণ
ডিমলায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস দিবস পালিত, গুরুত্ব পেল আগাম প্রস্তুতি

প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে জনসচেতনতা, আগাম প্রস্তুতি ও সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, খরা, ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজন কার্যকর পরিকল্পনা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে নীলফামারীর ডিমলায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস দিবস পালিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।

এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি’। দিবসটি উপলক্ষে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগের আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্না, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আশরাফুল ইসলাম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বীরেন্দ্রনাথ রায়, উপজেলা আইসিটি ট্রেনিং অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টার ফর এডুকেশনের (ইউআইটিআরসিই) সহকারী প্রোগ্রামার মো. শাহ্‌নুর আলম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক রইসুল আলম চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম সরকার, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য অধ্যাপিকা সেতারা সুলতানা এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লিডার মাধব চন্দ্র রায়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, “দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতনতা ও আগাম প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে জানতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি দুর্যোগ সহনশীল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।”

আলোচনা সভায় দুর্যোগের ঝুঁকি চিহ্নিত করা, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা রাখা, আগাম সতর্কবার্তা অনুসরণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এর আগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় উদ্ধারকৌশলবিষয়ক সচেতনতামূলক মহড়া (মক ড্রিল) প্রদর্শন করা হয়। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ পরিচালনা, নিরাপদে সরে যাওয়া এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের কৌশল তুলে ধরা হয়।

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস