খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

রাজশাহীতে ভ্যানচালককে কুপিয়ে ভ্যান ছিনতাই, এসআরবি-৫ এর হাতে গ্রপ্তার ৩ জন

মোস্তাফিজুর রহমান রানা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০২ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে ভ্যানচালককে কুপিয়ে ভ্যান ছিনতাই, এসআরবি-৫ এর হাতে গ্রপ্তার ৩ জন

 রাজশাহীর চারঘাটে ভ্যানচালককে চাকু দিয়ে কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ব্যাটারিচালিত ভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনায় চক্রের মূলহোতাসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৫)।

সোমবার দিবাগত রাত দেড়টায় জেলার বাঘা উপজেলার মীরগঞ্জ বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন-মোঃজহিরুল ইসলাম (৩০),মোঃসহিদুল ইসলাম (৪২) ওরফে টুটুল এবং আলমগীর হোসেন (৩৪)।

এসআরবি-৫ এর সদর কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে চারঘাটের শিশাতলা এলাকায় ভ্যানচালক তফিকুল ইসলাম (৫০) দুইজন যাত্রী নিয়ে যাওয়ার সময় ওই যাত্রীরা তার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় চাকু দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তার ব্যাটারিচালিত ভ্যান, একটি স্মার্টফোন ও নগদ টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ভিকটিমের ছেলে বাদী হয়ে চারঘাট থানায় দস্যুতা আইনে মামলা করেন। মামলা নং- ০৮, তারিখ- ১২/১০/২০২৬ইং, ধারা- ৩৯৪ পেনাল কোড।

মামলার পর এসআরবি-৫ ছায়াতদন্ত শুরু করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাতে মীরগঞ্জ বাজারের সামনে অভিযান চালিয়ে প্রথমে মূলহোতা জহিরুলকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অপর দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা তিনজনই ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

এসআরবি জানায়, গ্রেফতারকৃত জহিরুল পেশাদার ছিনতাইকারী ও চোরাচালান চক্রের সদস্য। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে ৮টি মামলা রয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চারঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস