খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

কৃষি ব্যাংকে লোন না দেওয়ায় শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও দুর্গাপূজা বোনাস দিতে না পারায় অনির্দিষ্ট কালের কর্মবিরতি দিয়ে চা বাগান বন্ধ

সৈয়দ আখলাক উদ্দিন মনসুর
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৮ অপরাহ্ণ
কৃষি ব্যাংকে লোন না দেওয়ায় শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও দুর্গাপূজা বোনাস দিতে না পারায় অনির্দিষ্ট কালের কর্মবিরতি দিয়ে চা বাগান বন্ধ

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় কৃষি ব্যাংকে লোন না দেওয়ায় শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও দূর্গা পূজা বোনাস না দিতে পারায় অনির্দিষ্ট কালের কর্মবিরতি দিয়ে বাগান বন্ধ করেছেন। চরম আর্থিক সংকটে মাঝে রয়েছে দেউন্দি টি কোম্পানি কর্তৃপক্ষ । জানা যায় , রবিবার (১২ অক্টোবর) সকাল থেকে উপজেলার দেউন্দি টি কোম্পানির অধীনে ৪ টি বাগানের মধ্যে মৌলভীবাজার জেলার মিরথিংগা চা বাগান অপরদিকে হবিগঞ্জের লাল চান্দ , নোয়াপাড়া ও দেউন্দি চা বাগানের প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক কাজে যোগ না দিয়ে দেউন্দি টি কোম্পানি অফিস গেইটের সামনে হাজার হাজার শ্রমিক জড়ো হন। এ সময় তারা বকেয়া পাওনার দাবিতে বিক্ষোভ করে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাগান বন্ধ রাখেন । তারা বকেয়া মজুরি ও দূর্গাপূজার বোনাস না পেলে কাজে যোগদান করবে না বলে জানিয়েছেন। শ্রমিকদের অভিযোগ , দীর্ঘ দিন ধরে তাদের সাপ্তাহিক মজুরি , রেশন ও উৎসব বোনাস বকেয়া রয়েছে । শ্রমিকরা বারবার বাগান কর্তৃপক্ষকে চাপের মুখে ফেলে দিয়ে কৃষি ব্যাংকে কোনো সুরাহা না দেওয়ায় বিপাকে পড়তে হয়েছে বাগান কর্তৃপক্ষ । বাধ্য হয়ে চা শ্রমিকরা কোম্পানির সামনে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু করেছেন । শ্রমিক নেতা প্রদীপ বোনার্জী বলেন , ২০২২ সাল থেকে সাপ্তাহিক মজুরি ও দূর্গা পূজা আসলেই কৃষি ব্যাংক টালবাহানা করে দেউন্দি টি কোম্পানির অধীনে চা বাগানে ঋণ দিচ্ছে না । ” আমরা দিন আনি দিন খাই। বেতন না পেলে সংসার চলবে কীভাবে । বাচ্চাদের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ” বকেয়া মজুরি ও সামনে দূর্গা পূজায় বোনাস পাচ্ছে না শ্রমিকরা। শ্রমিক নেতা প্রদীপ বোনার্জী আরো বলেন , গত ২৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের চা শিল্পের বিকাশ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিল্পের দীর্ঘ দিনের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন চা বাগানে মালিক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা শিল্পের বর্তমান অবস্থা । এর পর প্রতি দূর্গা পূজা আসার সময় কৃষি ব্যাংক ঋণ দিতে টালবাহানা শুরু করে যাচ্ছে । এবারো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলার পর ঋণ না দেওয়ায় বাগান বন্ধ হওয়ার কর্মসূচি দিয়েছি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাগান বন্ধ থাকবে । এবিষয়ে কোম্পানির ডেপুটি ম্যানেজার দেবাশীষ দেব রায় বলেন , বাগান চরম আর্থিক সংকটে রয়েছে কিন্তু কৃষি ব্যাংক লোন দিচ্ছে না । লোন না দেওয়ায় শ্রমিকদের মজুরি ও পূজা বোনাস দেয়া যাচ্ছে না । আমরা চেষ্টা করছি শ্রমিকদের মজুরি ও পূজা বোনাস দিতে ।

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস