খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

ভালুকায় এসিল্যান্ডের আদেশে জমির নামজারি বহাল

হাবিব হাসান
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
ভালুকায় এসিল্যান্ডের আদেশে জমির নামজারি বহাল

ময়মনসিংহের ভালুকায় জমির নামজারি ও জমা খারিজ নিয়ে বিরোধের ঘটনায় করা আবেদন খারিজ করেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকবাল হোসেন। জমি কেনার দলিলসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করে বিবাদীর নামে করা নামজারি ও জমা খারিজ সঠিক বলে আদেশ দিয়েছেন তিনি।

ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গোলাম মোস্তফার জমি নিজের বলে দাবি করে মো. শফিকুল ইসলাম ওই জমির নামজারি ও জমা খারিজের বৈধতা নিয়ে আপত্তি জানান। এ বিষয়ে তিনি ভূমি কার্যালয়ে আবেদন করেন। পরে জমি কেনার দলিল, নামজারির কাগজপত্র এবং অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে আবেদনটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন এসিল্যান্ড।

আদেশে বলা হয়, বিবাদী সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে জমিটি কিনেছেন। পরে ওই দলিলের ভিত্তিতে তাঁর নামে নামজারি ও জমা খারিজ করা হয়। কাগজপত্র যাচাই করে এসব কার্যক্রম সঠিক বলে মনে হওয়ায় আবেদনকারীর দাবি গ্রহণ করা হয়নি।

তবে জমিটি সরেজমিনে তদন্তের সময় সেখানে আবেদনকারী মো. শফিকুল ইসলামের দখল দেখা গেছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তদন্তের সময় বিবাদী উপস্থিত না থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

নথিপত্র ও প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে এসিল্যান্ডের আদেশে ১২৩৬২(IX-I)/২০২৫-২৬ নম্বর নামজারি ও জমা খারিজ সঠিক বলে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে The State Acquisition and Tenancy Act, 1950-এর ১৫০ ধারায় করা আবেদনটি খারিজ করে মামলাটি নথিভুক্ত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত ২০ মে ২০২৬ তারিখে ০৩.৪৫.৬১১৩.০০০.১৯.০৫২.২৬-১৫৫৭ নম্বর স্মারকে এ আদেশ জারি করেন ভালুকার এসিল্যান্ড মো. ইকবাল হোসেন।

আদেশের অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও অবগতির জন্য ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবং ডাকাতিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস