রাজশাহী লাখো ভক্তের মিলনমেলায় শেষ হলো খেতুরীধামের মহোৎসব ২০-২৫ লাখ ভক্তের সমাগম, ইসকনের ৪ লাখ ভক্তের মাঝে প্রসাদ বিতরণ
পদ্মার পাড়ে লাখো ভক্তের ঢল। চারদিকে হরিনাম, ভজন, আরতি আর প্রার্থনা। প্রেম ও ভক্তির সাধক ঠাকুর নরোত্তম দাসের তিরোভাব তিথি উপলক্ষে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর ঐতিহাসিক খেতুরীধামে তিন দিন ধরে বসেছিল লাখো মানুষের মিলনমেলা। শনিবার ধর্মীয় আচার, কীর্তন ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে,গতকাল রাতে ঐতিহ্যবাহী এই মহোৎসব।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় অধিবাস কীর্তনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। শুক্রবার সকালে নগরসংকীর্তন ও শ্রীল নরোত্তম দাস ঠাকুরের মহাঅভিষেক অনুষ্ঠিত হয়। দিনভর চলে হরিনাম সংকীর্তন, ধর্মীয় আলোচনা ও আধ্যাত্মিক আয়োজন। সন্ধ্যায় ইসকনের ৬০ জন নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে বিশেষ আরতি ও দামোদর অনুষ্ঠান এবং রাতে ভজন-কীর্তন ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা হয়। ভক্তদের মাঝে বিনামূল্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
মহোৎসব ঘিরে খেতুরীধাম ও আশপাশের এলাকা উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়। বাস, মাইক্রোবাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা আসেন। মন্দির প্রাঙ্গণে অনেকে অস্থায়ীভাবে থাকার ব্যবস্থা করেন। মন্দিরের আশপাশের সড়কে বসে ঐতিহ্যবাহী মেলা। ধর্মীয় উপকরণ, পোশাক, খাবার, গৃহস্থালি সামগ্রী, কারুশিল্প এবং কামার-কুমারের তৈরি পণ্য নিয়ে দোকান বসান ব্যবসায়ীরা।
আয়োজকরা জানান,তিন দিনের মহোৎসবে বাংলাদেশ, ভারত, নেপালসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ২০ থেকে ২৫ লাখ ভক্ত ও পুণ্যার্থীর সমাগম হয়। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন)-এর পক্ষ থেকে প্রায় ৪ লাখ ভক্তের মাঝে প্রসাদ বিতরণ ও খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা হয়।
খেতুরীধাম গৌরাঙ্গদেব ট্রাস্টি বোর্ডের সম্পাদক শ্যামাপদ সান্যাল বলেন, শত শত বছর ধরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় এই মহোৎসব হয়ে আসছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি মুসলিমসহ অন্য ধর্মের মানুষও সম্প্রীতির টানে এখানে আসেন। সবার সহযোগিতায় এবারও উৎসব সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]